মালিক বা দোকানদার থাকেন না, ক্রেতারা নিজের মতো খেয়ে টাকা রেখে যান

0
বিশ্বাসের ওপর চলা সমসের আলীর চায়ের দোকান। সম্প্রতি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে ।। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল দৃশ্যপট। দোকানে কোনো মালিক কিংবা কর্মচারী থাকেন না; অথচ সেখানে প্রতিদিন জমে ওঠে বেচাকেনা। পথচারী থেকে শুরু করে বাজারের স্থানীয় লোকজন নিজেরাই কেক-বিস্কুট নিয়ে খান, ইচ্ছেমতো চা বানিয়ে পান করেন এবং যাওয়ার সময় হিসাব অনুযায়ী টাকা রেখে চলে যান। এমনকি সাথে টাকা না থাকলে হিসাব কষে পরবর্তীতে এসে তা পরিশোধ করেন। চার বছর ধরে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সততার ওপর ভিত্তি করে এই চায়ের দোকানটি সফলভাবে চলছে।

দোকানের মূল মালিক পাশের ভালকি গ্রামের সমসের আলী। তিনি এই চায়ের দোকানের পাশাপাশি অন্য ব্যবসাও করেন। কোনো কর্মী রাখার ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিজের সন্তান চায়ের দোকানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী না হওয়ায়, সমসের আলী মানুষের বিশ্বাসের ওপর ভরসা করেই এভাবে দোকান চালিয়ে আসছেন।

প্রতিদিন সকালে এসে তিনি দোকান খুলে মালামাল গুছিয়ে ও চুলা জ্বালিয়ে নিজের অন্য কাজে চলে যান। মাঝখানে পণ্য ফুরিয়ে গেলে আবার তা এনে রাখেন। এরপর দুপুর ও রাতে—দিনে মোট দুইবার এসে ক্যাশ থেকে বেচাকেনার টাকা তুলে নিয়ে দোকান বন্ধ করেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ থেকে সমসের আলীর প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।

সম্প্রতি চারাতলা বাজারের ওই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ৬৫ বছর বয়সী হারুন অর রশিদ নামে এক সেবাগ্রহীতা নিজে দাঁড়িয়ে চা বানাচ্ছেন। সামনে রাখা রয়েছে একাধিক কাপ। সেখানে অবস্থানরত ক্রেতারা জানান, তাঁদের কেউ এই দোকানের মালিক নন; সকলেই চা পান করতে এসেছেন। একজন চা বানিয়ে অন্য সবাইকে দেন, পরবর্তীতে অন্য কেউ এসে সে দায়িত্ব নেন।

পায়রাডাঙ্গা গ্রাম থেকে আসা নিয়মিত ক্রেতা মতলেব হোসেন জানান, দোকানে এসে নিজের প্রয়োজন মতো চা নিজে বানিয়ে খান এবং অন্যদেরও দেন। এরপর যা বিল হয়, তা দোকানে রেখে যান। স্থানীয় আফাঙ্গীর হোসেন নামে আরেকজন জানান, খেয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা সাধারণত ঘটে না। মালিক বিশ্বাস রেখে চলে যান, আর ক্রেতারাও সততার পরিচয় দিয়ে টাকার হিসাব মিটিয়ে দেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনাকে বিরল হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। মানুষের প্রতি একজন দোকানদারের এই অপরিসীম বিশ্বাস এবং ক্রেতাদের সততার চর্চা পুরো এলাকায় এক ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেছে।