কৃষি উপকরণের দাম কমানো ও জিকে সেচ প্রকল্প চালুর দাবি কৃষক সংগ্রাম সমিতির

প্রয়াত সভাপতি মাস্টার ইমান আলীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এ দাবি করেছে দলটি

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : কৃষি উপকরণের দাম কমানো, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক নদী সনদে অবিলম্বে স্বাক্ষর এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি কৃষক সংগ্রাম সমিতি। প্রয়াত সভাপতি মাস্টার ইমান আলীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এ দাবি করেছে দলটি। একই সঙ্গে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১০টায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের মল্লিকপুর বটতলায়  স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি শ্যামল কুমার ভৌমিক। এছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান বাদল, কৃষক সংগ্রাম সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. ওলিয়ার রহমান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের নেতা মানবেন্দ্র দাস মিন্টু, অ্যাডভোকেট আহাদ আলী লস্কর, মকবুল হোসেন, সুকৃতি সরকার ও আতিয়ার রহমানসহ অনেকে। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হক লিকু।

সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহজলভ্য ও কম মূল্যে সরবরাহ না করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

তারা অভিযোগ করেন, কৃষি খাতে সরকারের অবহেলার কারণে কুষ্টিয়ার গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের পাম্পগুলো অচল হয়ে পড়েছে। ফলে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মাগুরার লাখো কৃষক সেচ সংকটে পড়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, জিকে প্রকল্প সচল থাকলে কৃষকদের সেচ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমত এবং জ্বালানি সাশ্রয় হতো।

সভায় আরও বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয়, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশের দাবি জানান বক্তারা।

নেতৃবৃন্দ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির উদ্যোগ বন্ধ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঈদের আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও পূর্ণ বোনাস পরিশোধের দাবিও জানান।