মাদক নিয়ন্ত্রণে আগ্নেয়াস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড পাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

0
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন সংশোধিত আইন অনুযায়ী নিজস্ব আগ্নেয়াস্ত্র, পোশাক ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে অভিযান চালাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।। ছবি: সংগৃহীত
মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে এত দিন আগ্নেয়াস্ত্র বা নিজস্ব ডগ স্কোয়াড না থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করতে হতো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে। এমনকি বিভিন্ন অভিযানে গিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হামলার শিকার হওয়ার নজিরও রয়েছে।
মাদক দমনে এই সীমাবদ্ধতা আর থাকছে না। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশের মাধ্যমে সংস্থাটিকে আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হয়েছে।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এখন থেকে পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্রসজ্জিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গণ্য হবে। অধিদপ্তরের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র বহন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

নিজস্ব অস্ত্রাগার ও মালখানা নির্মাণের পাশাপাশি পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক হাজতখানার ব্যবস্থাও থাকবে। মাদক চোরাচালান রোধে যুক্ত হচ্ছে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা।

নতুন এই আইনে ডিজিটাল মাধ্যম বা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচা, সরবরাহ বা বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদক অপরাধের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের নিয়ম করা হয়েছে।

মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি জেলা বা মহানগর এলাকায় এক বা একাধিক ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করবে, যেখানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মামলার তদারকি ও আদালতকে সহায়তার জন্য প্রতি জেলায় প্রসিকিউশন শাখা এবং প্রতিটি থানায় একটি বিশেষ সেল থাকবে।

পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. আবদুল কাইয়ুম এবং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই যুগোপযোগী সংশোধনের ফলে মাদক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গতি আসবে।