ঝিকরগাছায় এক আদম ব্যাপারি নিঃস্ব করেছে একাধিক পরিবারকে

0
ছবি: প্রতারক আনোয়ার হোসেন।

ঝিকরগাছা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ সিঙ্গাপুরে মোটা অংকের টাকার বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ১০/১২জনের কাছ থেকে প্রতারণা করে প্রায় ৩৫লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ঝিকরগাছার আনোয়ার হোসেন নামে এক আদম বেপারির বিরুদ্ধে।

প্রতারণার শিকার পরিবারগুলো বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ইতোমধ্যে টাকা ফেরত ও ন্যায় বিচারের আশায় কেউ মামলা করেছেন, কেউ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ।

গত মঙ্গলবার ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিমসহ কয়েকজন ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবে আসেন। বিদেশে পাঠানোর নামে করিমসহ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে সিঙ্গাপুরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ জানিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। তারা জানান, ঝিকরগাছার চিহ্নিত ও আলোচিত আদম বেপারি উপজেলার গদখালী ইউনিয়নের বারবারপুর (স্কুলপাড়া) গ্রামের দুলাল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন তাদের কাছ থেকে এই টাকা নিলেও বিদেশে পাঠাননি।

আব্দুল করিম দাবি করেন, নানা ছলচাতুরি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তার কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রতিকার দাবি করে গত২১ জুন তারিখে আনোয়ার হোসেনকে বিবাদী করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝিকরগাছা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং সিআর-৪৫৯/২৬। মামলার এজাহারে বাদী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

মামলার এজাহারে আরোও উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন পার হলেও বিদেশে না পাঠানোয় টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে আনোয়ার হোসেন তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ প্রেক্ষিতে বাদী আদালতের আশ্রয় নেন।

ছবি: প্রতারিত হওয়া কয়েকটি পরিবার।

এছাড়া পৌরসদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট শামসুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে সিঙ্গাপুরে চাকরির কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক আনোয়ার হোসেন। এর আগে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলামসহ অন্তত ১০ব্যক্তিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নামে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করেছেন তিনি।

এদিকে জালজালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ায় গা ঢাকা দেন প্রতারক আদম আনোয়ার হোসেন। এ ব্যাপারে কবিরুল ইসলাম শার্শা থানায় আনোয়ার হোসেনকে বিবাদী করে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন বলে জানাগেছে।

তবে এসব প্রতারণার বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যাক্তি এলাকার বাইরে থাকা এবং তার ফোন নাম্বার না থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।