মাঠে ৫৬, বাজারে ১০০; হাতবদলের মারপ্যাঁচে পটোলের দাম দ্বিগুণ

0
কৃষকের কাছ থেকে পটোলসহ অন্যান্য সবজি কিনে প্যাকেজিং করে ট্রাকে সাজানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের বারীনগর সবজির মোকামে ।। ছবি: সংগৃহীত

লোকসমাজ ডেস্ক ॥ যশোরের বারীনগর পাইকারি মোকামে যে পটোলের কেজি ৫৬ টাকা, ঢাকার ভোক্তার রান্নাঘরে পৌঁছাতে সেই একই পটোল কেন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাঠ থেকে পাতিল পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি পটোলের অন্তত পাঁচবার হাতবদল হয়। আর প্রতিবার হাতবদলে যোগ হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পথে পথে চাঁদাবাজি, উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং আড়তদারি খরচ।

বারীনগর মোকামে দেখা যায়, কৃষকরা ৫৫-৫৬ টাকা কেজি দরে পটোল বিক্রি করছেন। ব্যাপারীদের দাবি, যশোর থেকে এক কেজি সবজি ঢাকায় পাঠাতে খাজনা, শ্রমিক, বস্তা ও ট্রাক ভাড়া মিলিয়ে খরচ পড়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা। এর ওপর পথে পথে রয়েছে তথাকথিত ‘টোল’ আদায়ের নামে চাঁদাবাজি। নড়াইল বাস টার্মিনাল মোড়ে লাঠি হাতে কর্মীদের ট্রাক থামিয়ে টোল আদায়ের দৃশ্যও দেখা গেছে। এছাড়া সেতুর টোল তো আছেই।

ঢাকার যাত্রাবাড়ী আড়তে পৌঁছানোর পর শুরু হয় দ্বিতীয় দফার খরচ। আড়তদারি, ফড়িয়া, পাইকারি এবং সবশেষে খুচরা ব্যবসায়ী—এই চার স্তরের ব্যবসায়ীদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব মুনাফা, দোকান ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি যোগ হয় পটোলের দামে। ফলে সব মিলিয়ে ১০০ থেকে ১১০ টাকার নিচে এই পটোল বিক্রি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষকদের অভিযোগ, শুধু বাজারজাতকরণ নয়, আবাদের শুরুতেই চড়া দামে সার ও কীটনাশক কিনতে হওয়ায় তাঁদের উৎপাদন খরচও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উদ্যোগে ‘কৃষক থেকে ভোক্তা’ সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা চালু না হলে এই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থামানো যাবে না।