মাগুরায় আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যায় বোনের শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

0
মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ডেথ রেফারেন্স গ্রহণ ও আসামির আপিল খারিজ করে সোমবার এই রায় দেন উচ্চ আদালত।। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার বহুল আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) গ্রহণ, করা আপিল খারিজ ও জেল আপিল নিষ্পত্তি করে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখ ভুক্তভোগী আট বছর বয়সী শিশুর বোনের শ্বশুর।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য গত ১০ জুন সুনির্দিষ্ট এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। পরে ১৪ জুন থেকে বেঞ্চটি কার্যক্রম শুরু করে এবং গত ১১ আগস্ট মাগুরার এই আলোচিত মামলাটির শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক উপস্থাপনের মাধ্যমে শুনানি শুরু করার পর ২৩ ও ২৪ আগস্ট ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনের শুনানি শেষে গত ২৫ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও সৈয়দ ইজাজ কবির শুনানিতে অংশ নেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান শুনানি পরিচালনা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের মার্চের শুরুর দিকে বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল আট বছরের ওই শিশু। এরপর ৬ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মুমূর্ষু ও অচেতন অবস্থায় মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

ঘটনার পর মাগুরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলাউদ্দিন গত বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৭ এপ্রিল মামলাটি ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গৃহীত হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়ে মাত্র ৭৩ দিনের মাথায় গত বছরের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অভিযুক্ত হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের নথি গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পৌঁছায়। অন্যদিকে ২৫ জুন রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখ, যা ১ জুলাই শুনানির জন্য গৃহীত হয়। সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ হাইকোর্ট আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেন।