মহেশপুরে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে দোকান দিয়ে ভাড়া তুলছেন প্রভাবশালীরা

0
ছবি: সংগৃহীত।

জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) ॥ মহেশপুর পৌরসভা এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (আরএইচডি) জমি দখল করে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়ক ও জনপথের এসব জমির সঠিক ব্যবহার করা হলে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব। এ ছাড়াও পৌরসভার কাঁচা মালের হাট, মাছের হাট, সিএনজি-ভ্যান স্ট্যান্ড ওইসব জমিতে সরিয়ে নেওয়া গেলে শহরের রাস্তাগুলো যানজটমুক্ত হবে।

পৌরসভার জরিপে সড়ক ও জনপথের জমিতে অন্তত অবৈধভাবে দেড় শ দোকান স্থাপন রয়েছে। এর মধ্যে কলেজ বাসস্ট্যান্ড থেকে সরকারি খাদ্য গোডাউন পর্যন্ত সড়কের দু পাশে ৮১টি, গোডাউন থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের দু পাশে ৪৩টি দোকান রয়েছে।

এছাড়া আরও রয়েছে, মহেশপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে কলেজ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কের দু পাশে ১৪টি। অবৈধ এসব দোকান থেকে প্রভাবশালী দখলদাররা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া তুলে নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারের এসব অতি মূল্যবান জমি বেদখলে থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদে তেমন কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আরিফ হোসেনের অবৈধভাবে দখল করা জমিতে আয়ান সাইকেল গ্যালারির ব্যানারে একটি বড় দোকানে বাই-সাইকেলের ব্যবসা করছেন জুয়েল রানা নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রতিমাসে দোকান ভাড়া বাবদ আরিফ হোসেনকে ৭ হাজার টাকা দেন। এর পাশেই মহাসিন আলীর কথিত মালিকানায় আরও ৪টি দোকান ভাড়া দেওয়া রয়েছে। ২ লাখ টাকা করে নেওয়া জামানতের সাথে ৪টি দোকানের ভাড়াটিয়া প্রতি মাসে মহাসিন আলীকে প্রায় ১০ হাজার টাকা ভাড়া দেন। এর বিপরীতে আলী চেয়ারম্যানের দখল করা জমিতে ২টি দোকান রয়েছে। ২টি দোকান থেকে তিনিও প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া পান।

সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অল্প কিছু তালিকা বাকি আছে। তালিকার কাজ শেষ হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের সহকারী প্রকৌশলী এসেছিলেন, তার সাথে কথা হয়েছে। আসছিলেন। পৌর এলাকার ড্রেনের কাজ শেষ হলে অবৈধ স্থাপনাগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইসব জমির সঠিক ব্যবহার করা হবে। সড়কের জমি ব্যবহারের মাধ্যমে পৌরসভাকে সুন্দর করারও পরিকল্পনা রয়েছে।