মণিরামপুরে পানিবদ্ধ কাটা ধানে গজালো চারা,বিচালি পচে গোখাদ্য সংকটের শঙ্কা

0

 

মজনুর রহমান,মণিরামপুর (যশোর)॥ মণিরামপুরে ঘূর্ণিঝড় অশনির বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় কয়েকদিনের ধারাবাহিক ঝড়বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিবদ্ধ হয়ে ক্ষেতের কাটা ধানে ইতোমধ্যে চারা গজিয়েছে। তার ওপর পানিবদ্ধ অধিকাংশ ক্ষেতের বিচালি পচে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এলাকায় এবার গোখাদ্যের চরম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে বোরো ধান নিয়ে চাষিরা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এবার মণিরামপুরে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৭ হাজার ৫শ হেক্টর জমি। কিন্তু ভবদহের জলাবদ্ধতার কারণে এবার চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এবার চাষ করা হয় ২৬ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া এবং বীজ, সার, কীটনাশকের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এবার ফলন বেশ ভালো হয়। কিন্তু মাঝামাঝি সময়ে ক্ষেতে দেখা দেয় ব্লাস্ট রোগ। ফলে কিছুটা হলেও শেষ পর্যায়ে ফলনে ভাটা পড়ে। অধিকাংশ ধান পেকে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষেতের ধান কাটতে শুরু করেন। তখন ঘূনিণঝড় অশনির প্রভাবে কয়েকদিন ধারাবাহিক ঝড়বৃষ্টিতে বোরো ক্ষেতের পাকা ধান লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
গালদা গ্রামের কৃষক এনামুল হক সোহান জানান, তিনি ইতোমধ্যে ১৫ বিঘা জমির ধান কেটেছেন। কিন্তু ঝড় বৃষ্টিতে কাটা ধান ক্ষেতেই লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। তার ওপর কয়েকদিন ক্ষেতে পানিবদ্ধ থাকায় কাটাধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষক আশরাফ হোসেন জানান, ধানগাছে চারা গজানোর পর ওই ধান ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পানিতে ভিজে ধান ছাড়া বিচালিও পঁচে গেছে। আক্ষেপ করে শ্যামকুড় এলাকার রফিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, আবদুর রশিদসহ অধিকাংশ কৃষক জানান, ধারদেনা করে বোরো চাষ করা হয়েছিল। ফলন ও বর্তমান বাজার দর মোটামুটি ভাল(প্রতিমণ ১১ থেকে ১২শ টাকা) থাকায় উচ্চমূল্যে শ্রমিক নিয়ে ক্ষেত থেকে ধান কাটা হয়। কিন্তু গত সোমবার থেকে কয়েকদিনের ধারাবাহিক ঝড়বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে পানিবদ্ধ হয়ে অধিকাংশ কাটাধানে চারা গজিয়েছে। মাঝিয়ালী গ্রামের চাষি নিরঞ্জন দাস জানান, পানিবদ্ধ থাকায় কাটা ধানে চারা গজানো ছাড়াও বিচালি পচে গেছে। ফলে এলাকায় এবার গোখাদ্যেরও চরম সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে চাষিরা পড়েছে মহাবিপাকে।
পৌরশহরের পাইকারি ধান ক্রেতা মোদাচ্ছের আলী জানান, কয়েকদিনের ঝড়বৃষ্টিতে কৃষকের পাকা ধানে মই দেয়ার মত হয়েছে। পৌর শহরের গাংড়া, দুর্গাপুর, কামালপুর, মহাদেবপুর, বিজয়রামপুর, উপজেলার রাজগঞ্জ, নেঙ্গুড়াহাট, খেদাপাড়া, কাশিমনগর, ভোজগাতী, হরিহরনগর, মশ্বিমনগর, চিনাটোলা, নেহালপুর, দুর্বাডাঙ্গা, ঢাকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বোরো ধান নিয়ে এ ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন কৃষকরা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অঞ্জলী রানী জানান, কাটা ধানে চারা গজানোর ফলে তা মানবখাদ্যের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। অন্যদিকে বোরো আবাদের বিচালি থেকে মণিরামপুর উপজেলায় ৭০ ভাগ গোখাদ্যের জোগান হত। কিন্তু বিচালি পঁচে যাবার দরুন এবার গোখাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান ঝড় বৃষ্টিতে বিশেষ করে ক্ষেতের কাটা ধানের বেশ ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে জানান। ইতোমধ্যে উপজেলার ৮০ শতাংশ ধান ক্ষেত থেকে ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে। তবে আবাহওয়া অনুকূলে থাকলে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই বাকি ধান চাষিরা ঘরে তুলতে পারবেন ।