মণিরামপুরের ৩ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আটক ৯, অস্ত্র ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের মেঘনা বেকারির মালিক মশিউর রহমানের বাড়িসহ রোহিতা ও সরসকাঠিতে আরো দুই বাড়িতে ডাকাতির সাথে জড়িতদের আটক করেছে ডিবি পুলিশ। যশোর ও খুলনায় গত বুধবার পৃথক অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের ৮ সদস্যসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোনসেট, আগ্নেয়াস্ত্র ও তালা ভাঙ্গার যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বাঘারপাড়া উপজেলা ও সদর উপজেলার ৫ বাড়িতে ডাকাতির সাথে জড়িত অপর একটি চক্রের ৮ সদস্যসহ ১০ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে ৮টি ডাকাতির সাথে জড়িত পৃথক চক্রের ১৯ সদস্যকে আটক করলো সংস্থাটি। মণিরামপুরের ৩ বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আটকরা হলেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আশিংড়ী গ্রামের মৃত বেলায়েত মোড়লের ছেলে বর্তমানে সদর উপজেলার পুলেরহাট তফসীডাঙ্গার হাজী আব্দুর রউফের বাড়ির ভাড়াটিয়া নুর ইসলাম (৪৫), মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার চর দৌলতখান এলাকার আজিজ সরদারের ছেলে স্বপন সরদার ওরফে খবির ওরফে কবির (৫৫), সদর উপজেলার মোস্তফাপুর আমবাড়ির শাহজাহান বেপারী ওরফে শামছু শেখের ছেলে লিটন শেখ ওরফে লিটন হাওলাদার ওরফে লিটন বেপারী ওরফে আলম হাওলাদার (৪৯), পাহুলা গ্রামের মৃত চানমিয়া ওরফে আলতা বেপারীর ছেলে মিন্টু বেপারী ওরফে মন্টু (৫৫), বলসা গ্রামের মৃত মজিদ নকতির ছেলে হুমায়ুন কবীর (৫০), যশোর সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের আতিয়ার শেখের ছেলে জাকির হোসেন (২৫), রাজবাড়ী সদর উপজেলার ব্রাক্ষ্মণদিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪১), গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর উপজেলার বাকসা গ্রামের মৃত হামিদ শেখের ছেলে বর্তমানে যশোর শহরের শংকরপুর আশ্রম রোডের জনৈক খালেদের বাড়ির ভাড়াটিয়া সুরুজ শেখ (৫১) ও খুলনার সোনাডাঙ্গার ছোট বয়রা শ্মশানঘাট সড়কের জুড়ান চন্দ্র কর্মকারের ছেলে অসীম চন্দ্র কর্মকার (৪৭)। এরমধ্যে অসীম চন্দ্র কর্মকার জুয়েলারি দোকান মালিক এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণালঙ্কারের ক্রেতা। ডিবি পুলিশ জানায়, আটকদের বৃহস্পতিবার যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হয়।এর মধ্যে সুরুজ শেখ ও অসীম চন্দ্র কর্মকার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শম্পা বসু তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। অপর ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। ডিবি পুলিশের এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, গত ২৫ নভেম্বর দিবাগত রাতে মণিরামপুর উপজেলার কোদলাপাড়া গ্রামের বেকারি মালিক মশিউর রহমানের বাড়িতে ডাকাতি হলে তিনি এ ঘটনায় ২৭ নভেম্বর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে ডিবি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিবি পুলিশ ডাকাতির সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান শুরু করে। তিনি বলেন, মণিরামপুরে ডাকাতির দুইদিন আগে মাদারীপুরের পুলিশ লিটন শেখ নামে এক ডাকাতের খোঁজে যশোরে এসেছিলো। এ তথ্যটি ডিবি পুলিশ অবগত ছিলো। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, মণিরামপুরে ডাকাতির এক মাস আগে থেকে লিটন শেখ যশোরে অবস্থান করছিলেন। তার সাথে যশোর শহরের আশ্রম রোডের সুরুজ শেখ নামে এক ব্যক্তির মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হয়েছে। ফলে সন্দেহ হওয়ায় গত বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আশ্রম রোড থেকে সুরুজ শেখকে ডিবি পুলিশ আটক করে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুরুজ শেখ জানান, তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। মাস খানেক আগে লিটন নামে একজন যাত্রীর সাথে যশোর শহরে পরিচয় ঘটে। এরপর থেকে মাঝে মধ্যে তার রিকশায় যাতায়াত করতেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু লিটন কোথায় থাকেন তিনি তা জানেন না। এরই মধ্যে লিটন একদিন তাকে জানান যে, তারা ডাকাতি করেন। কোনো ধনী ব্যক্তির বাড়ি চিনিয়ে দেয়াসহ সার্বিক খোঁজখবর দিতে পারলে তারা তাকে টাকার ভাগ দেবেন। ফলে প্রলোভনে পড়ে এ সময় সুরুজ শেখ তাকে জানান, মণিরামপুরের কোদলাপাড়া গ্রামের মশিউর রহমান নামে একজন বেকারি মালিক তার পূর্ব পরিচিত। যশোর শহর থেকে মালামাল নিয়ে তার বেকারি কারখানায় পৌঁছে দিয়ে থাকেন। ওই ব্যক্তির অনেক টাকা আছে। এরপর সুরুজ শেখের কাছ থেকে সকল খোঁজখবর নেয়ার পর সঙ্গীদের নিয়ে মশিউর রহমানের বাড়িতে ডাকাতি করেন লিটন। ডাকাতি শেষে সুরুজ শেখকে ৮ হাজার টাকার ভাগ দিয়েছিলেন লিটনরা। তিনি আরো জানান, সুরুজ শেখের কাছ থেকে এ তথ্য পাওয়ার পর কৌশল অবলম্বন করা হয়। এরপর সুরুজ শেখকে দিয়ে মোবাইল ফোনে ডাকাত লিটনকে বলা হয়, একটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে ডাকাতি করলে অনেক স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা পাওয়া যাবে। তখন লিটন তাকে জানান,তারা সদর উপজেলার তফসীডাঙ্গার এডিস স্কুলের মাঠে বসে ডাকাতির পরিকল্পনা করছেন। সুরুজ শেখকে ব্যবহার করে ডাকাতদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ওই স্কুলে অভিযান চালিয়ে ডাকাত লিটনসহ ৭ জনকে আটক করে ডিবি পুলিশ। অপর ৬ জন হলেন, নুর ইসলাম, খবির, মন্টু, হুমায়ুন কবীর, জাকির ও আনোয়ার। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে সকলেই ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাদের দেয়া তথ্যের মণিরামপুর উপজেলার জলকর রোহিতার গ্রামের টেংরামারী বিলের জনৈক বকুলের পুকুর থেকে মশিউর রহমানের বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত ২টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। ডাকাতি শেষে চলে যাবার সময় তারা সেখানে বসে ভাগবাটোয়ারা করেন এবং মোবাইল ফোনসেট ২টি পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলনার খালিশপুর বাজারের চিত্রালী হলের সামনের রজনীগন্ধা জুয়েলার্সের মালিক অসীম চন্দ্র কর্মকারকে আটক এবং লুণ্ঠিত ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, আটক ডাকাতদের মধ্যে নুর ইসলামের স্বীকারোক্তিতে পরে সদর উপজেলার পুলেরহাট তফসীডাঙ্গার ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি ওয়ান শ্যুটারগান উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ডাকাতরা মশিউর রহমানের বাড়ি ছাড়াও রোহিতা ও সরসকাঠির দুই বাড়িতে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।