কুমিল্লায় ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার শিবির নেতা জিসান মিয়া সুস্থ, ছাড়পত্র দিল হাসপাতাল

0
ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ‘অসুস্থতার’ অজুহাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা কেন্দ্রীয় শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধান।। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে (২৮) আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ছাড়পত্র দিয়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ছাড়পত্র পেলেও বেলা তিনটা পর্যন্ত তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আজ বিকেলে জিসানকে আদালতে হাজির করা হবে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ শেষে জিসানকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ছাড়পত্র দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন এবং যেকোনো সময় পুলিশ তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাবে।

ঘটনার পটভূমি হিসেবে পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে দাউদকান্দির এক বিধবা নারীর (২৫) সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জেরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাতে চাপ দেন এবং ওষুধ সেবনের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে ওই নারী বিয়ের দাবি জানালে জিসান ১২ জুন বিয়ে করার সম্মতি দেন। কিন্তু বিয়ে এড়াতে ১১ জুন রাতেই আত্মগোপনে চলে যান। একই রাতে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় নিখোঁজের জিডি করেন।

পরদিন শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে পুলিশের ভাষ্য, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি — তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন এবং ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে এড়াতে এই নাটক সাজিয়েছিলেন।

হাসপাতালে থাকা অবস্থায় শুক্রবার রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসানসহ মোট চারজন আসামি — বাকি তিনজন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসান (২১)। তারা সবাই দাউদকান্দির বাসিন্দা এবং আগেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকেই জিসান চোখ না খুলে নিজেকে ‘অসুস্থ’ দেখাচ্ছিলেন। এ কারণে তাকে আদালতে পাঠাতে পারেনি পুলিশ। পরিস্থিতিতে গত রোববার চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। গতকাল সোমবার বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘সুস্থ’ বলে রায় দেয়। এর ভিত্তিতে আজ ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।