ভিডিও ফাঁসের পর দল থেকে বহিষ্কার: এবার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

0
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নূরনগর বাজার এলাকায় ।। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে রাজপথে নেমেছে স্থানীয় সচেতন জনতা।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদীয় এলাকা শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কমিশন অফিস চত্বরে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মো. ফরিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন মাওলানা আবদুল কাইয়ুম।

তিনি তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, নৈতিক স্খলনের ঘটনায় গাজী নজরুল আলেম সমাজকে অপমানিত করেছেন। অবিলম্বে তিনি পদত্যাগ না করলে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

এছাড়া একই সময়ে উপজেলার ঈশ্বরীপুর, কাশিমাড়ী ও নুরনগর ইউনিয়নে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।

ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে আয়োজিত সমাবেশে উপজেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি আছাদুল্লাহ বাহার, আইনজীবী ইব্রাহিম খলিল ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান বক্তব্য দেন। বক্তারা দাবি করেন, গাজী নজরুল সংসদ সদস্য পদের যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তাঁর পদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

একইভাবে নুরনগর বাজারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আলমগীরের সঞ্চালনায় এবং কাশিমাড়ী বাজারে ব্যবসায়ী সোলাইমান কবির ও আজিজুল ঢালীর উপস্থিতিতে পৃথক মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর শুরুতে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার দাবি করা হলেও পরদিন তিনি ফেসবুকে ভিডিওর তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত শেষে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গতকাল বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করা হয়।