ভারতীয় ট্রাকচালকদের নিয়ে শংকা বেনাপোলে

0

বেনাপোল সংবাদদাতা ॥ ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ট্রাক চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকায় করোনার নতুন ধরন সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এই ট্রাক চালক ও সহায়তাকারীরা যত্রতত্র ঘোরাফেরা, কেনা কাটা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের ব্যাপারে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা নিয়েও কথা উঠেছে। ভারতীয় পণ্যবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের সময় ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ও ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের বাদ রেখে অনাভিজ্ঞ আনসার সদস্য দিয়ে চলছে এসব ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ।
এদিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় সমাজিক দূরত্বের বালাই নেই বন্দর অভ্যন্তরে। স্থানীয়রা বলছেন, ভারত থেকে যেসব ট্রাক চালকেরা বন্দরে আসছেন তারা ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন না। বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় অবাধে মাস্ক-পিপি ছাড়া যত্রতত্র চলাফেরা করছেন চালক ও খালাসিরা। অনেকের কাছে মাস্ক বা পিপি থাকলেও তা ঠিকমতো ব্যবহার করছেন না। কারো মুখে মাস্ক থাকলেও তা ঝুলছে থুতনিতে। বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, ভারতে করোনার নতুন সংক্রমণে মৃত্যুহার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে সরকার বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত বন্ধ করে দিলেও দেশের শিল্প-কলকারখানাগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বন্দর লকডাউনের আওতামুক্ত রেখেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বন্দরে বাণিজ্য সম্পাদনায় কাজ করছেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকসহ প্রায় ২০ হাজার কর্মজীবী মানুষ। বন্দরে আনসার সদস্যদের যোগসাজশে কিংবা চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা উদোম শরীরে রাস্তা-ঘাটে যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি বাজার ঘাটে কেনাকাটার কাজে বের হচ্ছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. খায়রুজ্জামান মধু বলেন, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ট্রাক চালকেরা বেনাপোল বন্দরে আসছেন। বন্দর এবং কাস্টমসকে বলা হয়েছে যাতে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা বন্দরের বাইরে বের বের হতে না পারে। তার মতে আগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সামাজিকভাবে বাঁধা না দিলে বেনাপোলসহ যশোরে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।