বেনাপোলে মানবপাচারের শিকার ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সুরক্ষায় হাফওয়ে হোমের উদ্বোধন

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা ॥ মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়, সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে বেনাপোলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সেফ স্পেস’ বা ‘হাফওয়ে হোম’।

মঙ্গলবার বেনাপোলের দ্য সান রুফ হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী সভার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল অ্যাকশন এগেইন্সট ট্রাফিকিং ইন পারসন্স অ্যান্ড স্মাগলিং অব মাইগ্রান্টস’ প্রকল্পের আওতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রাইটস যশোর।

সভায় জানানো হয়, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের জন্যে জেন্ডার-সংবেদনশীল ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা এই হাফওয়ে হোমের প্রধান লক্ষ্য। এখানে অস্থায়ী নিরাপদ আশ্রয়, খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিংসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

বেনাপোলের ভবারবেড় এলাকায় স্থাপিত হাফওয়ে হোমে একসঙ্গে ৩০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত এখানে অবস্থান করতে পারবেন। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্যে একজন হোম ম্যানেজার, হোম মাদার, নারী ও পুরুষ কাউন্সিলর, বাবুর্চি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তিনজন নিরাপত্তাকর্মীসহ ৯ সদস্যের একটি দল দায়িত্ব পালন করবে।

রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক প্রদীপ দত্ত। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাসনীম বিনতে করিম। হাফওয়ে হোমের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন রাইটস যশোরের উপপ্রকল্প পরিচালক এসএম আজহারুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোলের পৌর প্রশাসক ফজলে ওয়াহিদ, বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, বেনাপোল বিজিবির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোহাসিন চৌধুরী, বেনাপোল প্রেসক্লাবের সভাপতি মহাসিন মিলন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় সেবা ও মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।