বেনাপোলে খালেদা জিয়ার জন্ম বার্ষিকীর দোয়া অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের হামলা; মিলন চেয়ারম্যানসহ আহত ১৫

0

 

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরের বেনাপোলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। হামলায় বিএনপি নেতা মিলন চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের নাম জানাগেছে। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাছাড়া কেউ কেউ বেসরকারিভাবে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন বলেও জানাগেছে। এদিকে খবর পেয়ে আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ দলের ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বেনাপোল পৌর বিএনপি এই দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দলীয় সূত্র ও আহতদের মাধ্যমে জানাগেছে, বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগ নেতা ও চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অপুর নের্তৃত্বে ১০/১৫জন সন্ত্রাসী ১৬ আগস্ট বেলা ৪টার দিকে বেনাপোল নূর শপিং কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত বিএনপির দোয়া অনুষ্ঠানে এ হামলা করে। হামলায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর তাদের অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হামলায় আহতরা হলেন বেনাপোল পৌর বিএনপি নেতা সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মিলন (৫৭), বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান (৫০), গাজীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু (৫০), বেনাপোল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক সাদিকুর রহমান আলিপ (২৫), বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মো. আরিফুজ্জামান আরিফ (৩০), বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন (৩০), হাবিবুর রহমান(৪১), আশিকুর রহমান আশিক (৩০), মিজানুর রহমান (২৮), আব্দুল আলিম (৫৫) ও ছাত্রদলের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম(২১)। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে যশোর সদর হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেওয়াসহ তাদের পাশে ছুটে যান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সদস্য গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান জহির, খুলনা বিভাগীয় যুবদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিদুর রহমান সাগর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাপ্পী, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহনেওয়াজ ইমরানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বেনাপোল পৌর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা জানান, বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত দলের চেয়ারপার্সন. সাবেক সফল প্রধান মন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় আচমকা লোহার রড, হকি স্টিক, কোদাল, কুড়ালের আছাড় ও হাতুড়ি হাতে নিয়ে বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগ নেতা, চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অপু ও রাসেলের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী রুবেল, অরেন্স, দিপু, সাজ্জাদ, সুজন, রাব্বি, রানা ও দিসানসহ ১০/১৫জন হামলা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করেন। আহতরা জানান, হামলাকারীরা বেনাপোল বাজারের চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা ও চুরি ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এরা আগে বেনাপোল পৌর মেয়রের অধীনে সন্ত্রাস করলেও এখন এরা অপু ও রাসেলের নেতৃত্বে এমপি গ্রুপে যোগদান করেছে।
ছাত্রলীগের একনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন হামলাকারীরা কেউ ছাত্র না। সবাই চাঁদাবাজ। এখন এরাবেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এই গ্রুপটি কিছুদিন আগে যুবদলনেতা ইমদাকে মারপিট করেছিল। এদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেমে নেই। তিনি এসব ঘটনায় আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতা ও পুলিশকে দায়ী করেন।
অপরদিকে শার্শা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে কামারবাড়ি মোড়ে বিএনপি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া অনুষ্ঠান করতে দেয়নি শার্শা আওয়ামীলীগ। কামারবাড়ি মোড়ের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন পোতা পাড়ার রফিকুল হুমকি দিয়ে বলেছেন, উপরের নির্দেশ; এখানে বিএনপির কোনো অনুষ্ঠান হবেনা। হুমকি ধামকির কারণে কামার বাড়িমোড়ে বিএনপির দোয়া অনুষ্ঠান হয়নি।
বেনাপোলে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ও বেনাপোল পৌর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা। তারা এ ঘটনার তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।