শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

শিল্পকারখানা ধ্বংসের অপচেষ্টা রুখতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

0
শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: প্রধানমন্ত্রী

লোকসমাজ ডেস্ক : শ্রমিকদের দাবির আড়ালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বাগেরহাটে এটি তাঁর দ্বিতীয় সফর। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার পাশাপাশি নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে।

তিনি বলেন, দেশে হাজার হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলসহ দেশের যেসব এলাকা দীর্ঘদিন অবহেলিত রয়েছে, সেসব অঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এসব অঞ্চলকে আর অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাতদিন পরিশ্রম করছে দেশের সমস্যার সমাধান, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের জন্য। এর লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করা। শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিকেরা উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিল্পকারখানায় ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন সরকার দেশে কর্মসংস্থান ও শিল্পের প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখন দেশের বাইরে সীমান্তের ওপার থেকে শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তাঁর বিশ্বাস, শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কর্মস্থল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি কলকারখানায় গিয়ে সেগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মানুষ কাজ করেন এবং সেখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তাঁর অভিযোগ, অতীতে দেশের সম্পদ লুটপাট করে অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া একটি গোষ্ঠী এখন সীমান্তের ওপারে অবস্থান করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মিল-কারখানা দেশের সম্পদ, একই সঙ্গে শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব কারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এর প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতেও।

তিনি আরও বলেন, যখন সরকার হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, তখন সীমান্তের ওপার থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখন সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোর। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। জনগণের সরকার হিসেবে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পথসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন প্রমুখ।

পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় বাগেরহাট জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি খুলনার উদ্দেশে বাগেরহাট ত্যাগ করেন।