বেনাপোলে কলেজছাত্রকে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

0

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে এক কলেজছাত্রকে আটকের পর ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বেনাপোল পৌর গেট এলাকায়। আটক কলেজছাত্র মো. রিংকু মিয়া বেনাপোল পোড়াবাড়ি নারানপুর গ্রামের আশানুর রহমানের ছেলে। তিনি নাভারন ডিগ্রি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। বেনাপোল আমড়াখালী মোড়ের আবু সাইদ স্টোরের মুদি দোকানদার তরিকুল ইসলাম জানান, সোমবার রাতে বেনাপোল পোর্ট থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য একটি খালি ট্রাক ধরে নিয়ে যান থানার দিকে।
বেনাপোল আমড়াখালী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে ইমরান হোসেন বলেন, ‘রিংকু আমার বন্ধু। তাকে আমি ফোন করে বেনাপোল বাজার থেকে আমার বাড়িতে কলা রুটি নিয়ে আসতে বলি। সে বাজার থেকে কলা রুটি নিয়ে এসে পৌর গেটে দাঁড়ালে হঠাৎ শাহিন ফরহাদ নামে পুলিশের একজন এএসআই তাকে (রিংকুকে) মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর জানতে পারি রিংকুকে ফেনসিডিল দিয়ে আটক দেখানো হয়েছে।’ ইমরান আরও জানান, আমড়াখালী থেকে আটক ট্রাক থেকে একটি কালো ব্যাগ বেনাপোল বলফিল্ড থেকে নামিয়ে নেয়া হয়। সে সময় অর্থের বিনিময়ে পুলিশ ওই ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে ছেড়ে দেয়। তিনি জানান, ওই কালো ব্যাগে ফেনসিডিল ছিল। আর এই ফেনসিডিল দিয়ে রিংকুকে আসামি করা হয়েছে। আমড়াখালির আজিবর রহমানের ছেলে হাসান বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে পুলিশ রিংকুকে নাটকীয়ভাবে ফাঁসিয়ে আদালতে চালান দিয়েছে। এ ব্যাপারে আটক রিংকুর পিতা আশানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দরিদ্র মানুষ। আমার ছেলেকে মিথ্যাভাবে ফাঁসিয়ে পুলিশ চালান দিয়েছে। আমি তাকে বেনাপোল বাজারের একটি ওষুধের দোকানে রেখেছি। সেখান থেকে উপার্জন করে সে এখন অনার্স পড়ছে।’ বেনাপোল বাজারের ডাক্তার মাকছুদুর রহমান ওদু বলেন, ‘আমার ফার্মেসিতে অষ্টম শ্রেণি থেকে রিংকু কাজ করছে। পাশাপাশি সে লেখাপড়াও করে। আজ পর্যন্ত তার কোন খারাপ সঙ্গ বা আচরণ পাইনি।’ এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের এএসআই শাহিন ফরহাদ বলেন, ‘আমি কোন ট্রাক আটক করিনি। তবে রিংকু নামে একজনকে একটি কালো ব্যাগে থাকা ৭৮ বোতল ফেনসিডিলসহ আটক করেছি। তাকে মাদক সংক্রান্ত মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, ‘ফেনসিডিলসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ফেনসিডিল দিয়ে কাউকে ফাঁসানো হয়নি।’