বৃষ্টি, বাড়তি ভাড়া, বাস আর টিকিট না পাওয়া নিয়েই বাড়ি ফেরার অপেক্ষা

0
কাউন্টারের সামনের সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। এর মধ্যে দিয়েই বাসে উঠছেন ঘরমুখো যাত্রীরা।। ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার আগে বাড়ি ফিরতে রাজধানীর জনপথ মোড় থেকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পর্যন্ত দীর্ঘ সারি বেঁধেছেন ঘরমুখী মানুষ। কারও হাতে ব্যাগ, কারও কাঁধে বস্তা, কেউ ছোট শিশু কোলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। কিন্তু বাস মিলছে না। যেটুকু মিলছে, সেখানেও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সরেজমিনে এই চিত্র দেখা গেছে। জনপথ মোড়সহ আশপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই বাসে আলাদা ভাড়া

জনপথ মোড়ে খুলনাগামী বখতিয়ার পরিবহনের সামনে দাঁড়ানো যাত্রীরা অভিযোগ করেন, একই বাসে কারও কাছ থেকে ৬০০, কারও কাছ থেকে ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাসের চালকের সহকারী রাকিব অবশ্য বললেন ভিন্ন কথা। তাঁর ভাষ্য, কাউন্টারে সেই ভাড়া ১ হাজার টাকা। বরিশালগামী আফরা এক্সপ্রেসের নন-এসি বাসে ভাড়া চাওয়া হচ্ছিল ৮০০ টাকা, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে এই রুটে ভাড়া ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা। বাড়তি ভাড়ার কারণ জানতে চাইলে গাড়ির এক কর্মী বলেন, ‘আমি কিছু জানি না।’

পিরোজপুরগামী ইমাদ পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্বরত লিটনের জবাব ছিল আরও বেপরোয়া। তিনি বলেন, ‘আপনি যে আলোর রিপোর্টারই হন না কেন — বড় করে লিখে দেন।’

টিকিট নেই, গন্তব্যও অনিশ্চিত

পিরোজপুরগামী যাত্রী মাসুম বিল্লাহ জানান, টিকিট নেই, আর যেগুলোয় আছে সেখানে ভাড়া বেশি। তাঁর কথায়, এখন না গেলে বাড়িই যাওয়া হবে না। ছেলেকে নিয়ে খুলনা যেতে আসা মনোয়ারা বেগম অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেও টিকিট পাননি। শেষে ধোলাইপারের দিকে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। সায়েদাবাদের জোনাকি সার্ভিস লাইন কাউন্টারের সামনে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাসে উঠতে পারেননি শাহেদ আলম। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বাড়ি ফিরতেও যদি এমন ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের দিন বিভিন্ন জেলায় যাওয়া অনেক বাস এখনো ঢাকায় ফেরেনি। এতেই তৈরি হয়েছে বাসের সংকট।

বৃষ্টিতে ভোগান্তি চরমে

দুপুর ১২টার পর ঝুম বৃষ্টি নামলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কাউন্টারের সামনে অপেক্ষারত যাত্রীরা মুহূর্তেই ভিজে যান। কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউ পরিবার নিয়ে ছুটে যান ছাউনির নিচে। অনেক শিশুকে ভেজা কাপড়ে কাঁদতে দেখা যায়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি বাস এসে পৌঁছালে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। ততক্ষণে কাউন্টারের সামনের সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। কেউ শিশু কোলে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যান, কেউ মালপত্র মাথায় তুলে বাসের দিকে ছোটেন, কেউ রিকশা ভাড়া করে গাড়ির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। ভেজা কাপড়, কাদা আর বৃষ্টির মধ্যেই কোনোভাবে বাসে উঠলেন ঘরমুখী মানুষেরা।