বিশেষ টিকাদানের পরও জুলাইয়ে ১১৮ শিশুর মৃত্যু: হামের টিকার কার্যকারিতা যাচাইয়ে সরকারের গবেষণা

0
সারাদেশে বিশেষ টিকাদানের পরও জুলাই মাসে হাম ও এর উপসর্গে ১১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। টিকার কার্যকারিতা ও শিশুদের রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রা যাচাইয়ে দেশব্যাপী গবেষণা শুরু করেছে সরকার।। ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনার পরও হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত জুলাই মাসেই হাম ও ভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গে ১১৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং শুধুমাত্র জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ৩০ হাজার ২০৯ জন শিশু। এমন পরিস্থিতিতে টিকার কার্যকারিতা ও শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির হার যাচাই করতে দেশব্যাপী গবেষণা শুরু করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ৫ এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দিয়ে ১০৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবি করা হলেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে তুলনা করে বৈষম্য দেখা গেছে। ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ, অর্থাৎ প্রায় ৪৬ লাখ শিশু বিশেষ হাম টিকাদানের বাইরে থেকে গেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রাদুর্ভাব এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রাক্কলনে ভুল থাকায় ৪৬ লাখ শিশু কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, শিগগিরই সভা আহ্বান করে বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে।

এদিকে নিয়মিত ও বিশেষ দুই ধরনের টিকা পাওয়ার পরও অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে বা প্রাণ হারাচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টিকাদানের ওপর নির্ভর না করে রোগী শনাক্তকরণ, আইসোলেশন, হাসপাতাল প্রস্তুতি ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি অপুষ্টি, মায়ের স্বাস্থ্য ও ভিটামিনের ঘাটতিকেও কম বয়সে সংক্রমণের কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) মাধ্যমে দেশের ১৮টি উপজেলা থেকে রক্তসংগ্রহ করে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আগস্টের মাঝামাঝি এই গবেষণার ফল প্রকাশ পাবে, যা থেকে টিকার মাঠপর্যায়ের কার্যকারিতা ও পুনটিংকাদানের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হবে।