বিরামপুর সীমান্তে অর্ধশতাধিক মানুষকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধার মুখে ব্যর্থ বিএসএফ

0
দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে ৬০-৭০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে স্থানীয় গ্রামবাসী। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে লাঠিসোটা হাতে সীমান্তে কড়া পাহারা দিচ্ছেন তারা।। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর তীব্র বাধার মুখে বিএসএফের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২০) আওতাধীন দাউদপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের ২৮৯/৫১এস ও ২৮৯/৫৬এস সীমানা পিলার থেকে প্রায় ২০-৩০ গজ দূরে ভারতের অভ্যন্তরে ‘নিচা গোবিন্দপুর’ এলাকায় বর্তমানে ওই নারী-পুরুষেরা বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন।

দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মইনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফ কায়দা করে কয়েকজন নারী-পুরুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পেরে বিজিবি গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তা প্রতিহত করে। এর পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বিজিবি, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য এবং সাধারণ গ্রামবাসী একত্র হয়ে কড়া পাহারা বসাচ্ছেন।

সীমান্ত পাহারায় যুক্ত মাহাফুজুর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের জীবন থাকতে ভারতের কোনো মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না। প্রয়োজনে গ্রামবাসী লাঠি হাতে সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেব।”

দাউদপুর বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাহাবুবুর রহমান জানান, বিজিবির দৃঢ় অবস্থান ও তৎপরতায় বিএসএফ একজন মানুষকেও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি। এই কাজে স্থানীয় গ্রামবাসীও বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। বিজিবি ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত বাধার মুখে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে আসতে যাওয়া ব্যক্তিরা আর সামনের দিকে এগোতে সক্ষম হয়নি।