যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’: প্রিয় দলের ভালোবাসায় মেসি ভক্তদের ব্যতিক্রমী উন্মাদনা

0
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার যমুনার চরে আকাশি-সাদা রঙে সজ্জিত আড়াই যুগের পুরোনো 'আর্জেন্টিনা বটগাছ'।। ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় যমুনার চরে এক বিশাল আকৃতির বটগাছকে আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজিয়েছেন ফুটবল সমর্থকেরা। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, আড়াই যুগেরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি যেন আর্জেন্টিনার চিরচেনা আকাশি-সাদা পতাকার রূপ ধারণ করেছে। ব্যতিক্রমী এই ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ দেখতে এখন প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ফুটবলপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী আজগড়া-জামতৈল খেয়াঘাটের পূর্ব পাশে যমুনার চরে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংগৃহীত চাঁদায় প্রায় ১০ হাজার টাকার রঙ কেনা হয়। এরপর যুবক, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সি ১৯ জন সমর্থক মিলে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পুরো বটগাছটি রাঙিয়ে তোলেন। গাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে ডালপালা—সবখানেই এখন আকাশি ও সাদা রঙের ছোঁয়া। বর্তমানে এই গাছটির ওপরে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার পতাকা উড়ছে, যা চার রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে পথচারী ও সমর্থকদের স্বাগত জানাচ্ছে।

স্থানীয় আর্জেন্টিনা সমর্থক আসাদুল ইসলাম জানান, প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা এবং ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতেই তাদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন।

এটি দ্বিতীয়বারের মতো এই বটগাছটি নীল-সাদা রঙে রাঙানোর ঘটনা। তিনি আরও জানান, ফুটবলের উন্মাদনা এখন যমুনার চরেও ছড়িয়ে পড়েছে। সারা দিনের কাজ শেষে বিকাল বা সন্ধ্যায় চরের মানুষ এই গাছের নিচে জড়ো হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

বটগাছটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে সেলফি তুলছেন এবং পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন। স্থানীয়রা জানান, বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে জড়ো হন। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ম্যাচ থাকলে সেখানে রান্না করা খাবারের আয়োজন, সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা এবং চায়ের দোকানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়, যার সম্পূর্ণ খরচ স্থানীয়রাই চাঁদা তুলে বহন করেন।