বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ৪ জনের পেট কেটে বস্তায় বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান

0
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী চারজনকে বলেশ্বর নদে নিয়ে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে গুলি ও পেট কেটে বস্তাবন্দী করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির।। ছবি: সংগৃহীত

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নজরুল ইসলামসহ চারজনকে বলেশ্বর নদে নিয়ে চোখ বেঁধে, গুলি করে এবং নৃশংসভাবে পেট কেটে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন মেজর সাব্বির।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম ও হত্যা মামলায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য দেন সামরিক কর্মকর্তা মেজর সাব্বির।

সাক্ষ্যে মেজর সাব্বির জানান, ২০১০ সালের মে মাসে র‍্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের তৎকালীন প্রধান জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি ও নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় র‍্যাব-৮-এর ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সদস্যরা। বরগুনার পাথরঘাটার চরদুয়ানির বলেশ্বর নদে ফিশিং ট্রলারে মুখ ও পুরো শরীর ঢেকে চারজনকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে তাদের লাশ গুম করা হয়।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর র‍্যাবের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার একই অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক। তিনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছিলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে আনা লোকদের গুলি করতেন জিয়াউল আহসান। পরবর্তীতে লাশ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে সেজন্য গলায় অথবা পায়ে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

ট্রলার মাঝি আব্বাস মল্লিক আরও জানিয়েছিলেন, বন্দিদের পেট কেটে দেওয়া ও মাথায় গুলি করার কারণে নাড়িভুঁড়ি ও মস্তিষ্ক বেরিয়ে আসত। ফলে বোট রক্তে ভেসে যেত এবং পরবর্তীতে সেই ট্রলার ধোয়ার জন্য বরফ মিলে নিয়ে আসা হতো।