বাড়ল সরু চালের দাম কমেছে সবজির

0

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ বোরা ধানের ভরা মৌসুমেও বাজারে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে সরু চালের দামে। এ সপ্তাহে বেড়েছে বাংলামতি, মিনিকেট ও বিআর-৪৯ ধানের চালের দাম। এদিকে গত সপ্তাহে ডিমের দাম বাড়ার পর খামারিরা আর কমাননি। বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। তবে এ সপ্তাহে বেশ কিছু সবজির দাম কমে সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। রোববার যশোরের বড়বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বোরো ধানের ভরা মৌসুমে বাজারে পর্যায়ক্রমে সরু চালের দাম কমে আসলেও এ সপ্তাহে আবারও দাম বাড়তে দেখা গেছে।

রোববার বড়বাজার চালবাজারে বাংলামতি চাল প্রতি কেজি মানভেদে ৮২ থেকে ৮৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮২ থেকে ৮৪ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৬৮ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৬৪ টাকা। বিআর-৪৯ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা। তাছাড়া কাজললতা চাল ৬২ টাকা, বিআর-৬৩ চাল ৭০ টাকা, স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা ও হীরা চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। যশোর চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সুশীল কুমার বিশ্বাস জানান, বাজারে হঠাৎ করে সরু চালের বিক্রি বেড়ে গেছে। এ কারণে সরু চালের দাম বেড়েছে। তবে তিনি আশা করেন, আগামী কুরবানি ঈদের পরে সরু চালের দাম কমে আসবে।

বাজারে গত দু সপ্তাহ ধরে আবারও বাড়তি দামে মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে। রোববার বাজারে লাল ডিম প্রতি পিস ১১ টাকা ও সাদা ডিম প্রতি পিস ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বড়বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা আবু কালাম জানান, খামারিরা মুরগির ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে।

খামারের মুরগি ব্রয়লারের দাম প্রতি কেজির দাম ১৮০ টাকা এ সপ্তাহে অপরিবর্তিত থাকলেও সোনালি মুরগিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। তাছাড়া লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা ও দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।

এদিকে, বড়বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কমে সহনীয় পর্যায়ে চলে এসেছে। রোববার বরবটি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। ঝিঙে বিক্রি হয়েছে ২৫/৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা পটল বিক্রি হয়েছে ২০/২৫ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। কুশি বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। ঢেঁড়স বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা। লাউ প্রতিটি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা। তাছাড়া মুখিকচু প্রতি কেজি ১২০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা,শসা ৬০ টাকা, কাঁটা বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বড়বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা নাসির আলী জানান, আবহাওয়া ভালো থাকায় সবজির ফলন বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ বেড়ে দাম কমছে।

কাঁচামালের আড়তদার বড়বাজার এইচএমএম রোডের ‘আরিফ ভাণ্ডার’-এর অন্যতম স্বত্বাধিকারী মো. শাহাবুদ্দিন মোড়ল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে সবজির দাম আর বাড়বে না।