দিনমজুর ও গৃহকর্মীর কন্যা মালিহার জিপিএ-৫, স্বপ্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার

0
ছবি: শিক্ষার্থী মালিহা সুলতানা।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চরম দারিদ্র্যকে জয় করে অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শহরতলীর শেখহাটি শফিয়ার রহমান মডেল একাডেমির ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা সুলতানা জিপিএ-৫ পেয়ে সফলতা অর্জন করেছেন।

শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার ভূমিহীন দিনমজুর আলমগীর হোসেন এবং গৃহকর্মী শান্তা বেগমের একমাত্র কন্যা মালিহা সফলতা ধরে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

সোমবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর মেয়ের সাফল্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা শান্তা বেগম। মুঠোফোনে কথা হয় তার সাথে। মেয়ের সফলতার কথা বলতেই কেঁদে ফেলেন মা শান্তা বেগম। পরীক্ষার আগে মেয়েকে একটি নতুন জামা দিতে না পারা হাভাতে মা বলেন, “কোনোদিন ভাবতেই পারিনি আমার মালিহা এতো ভালো রেজাল্ট করবে। পরীক্ষার সময় ওকে একটু ভালো খেতে দিতে পারিনি। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি। আমার মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন আছে, অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না জানি না।”

এদিকে মেয়ের সাফল্য নিয়ে বাবা আলমগীর হোসেনের যখন আনন্দ-উল্লাস করার কথা, তখনও তিনি উদয়-অস্ত জীবনসংগ্রামে ব্যস্ত। মালিহা সুলতানা বলেন, “আমার এই সাফল্যের পেছনে মা-বাবার পর আমার গৃহশিক্ষক (প্রাইভেট শিক্ষক) মোহাম্মদ সাজু হোসেন ও তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। বিশেষ করে সাজু স্যার আমার অবস্থার কথা শুনে আমাকে বিনামূল্যে পড়িয়েছেন। এমনকি তিনি আমাকে বই পর্যন্ত কিনে দিয়েছেন। তার অবদানের কথা আমি কোনোদিনই অস্বীকার করতে পারব না।”

শেখহাটি শফিয়ার রহমান মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম মালিহা সুলতানার সাফল্যে নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, নিজের অদম্য ইচ্ছা না থাকলে আজকে তার এই পর্যন্ত আসার কথা ছিল না; সে অনেক আগেই ঝরে যেত। আমার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করেছি। সকলের সহযোগিতা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির বলে আজ মালিহা তার শিক্ষাজীবনের শুরুতে সফলতা অর্জন করেছে। আমি তার আগামী দিনেও সফলতা কামনা করছি।”

এদিকে মালিহা সুলতানার গৃহশিক্ষক মোহাম্মদ সাজু হোসেন বলেন, “সে আমার ‘কমার্স কেয়ার’ কোচিংয়ের ছাত্রী। সে অত্যন্ত মেধাবী, কিন্তু তাদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। তাদের সংসার কোনোমতে চলে, পড়াশোনা করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। এ অবস্থায় যতটুকু সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব, আমি দিয়েছি। সে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার এই ফলাফল এটাই প্রমাণ করে দারিদ্র্য মেধাকে হারাতে পারে না।”