বাবার মতো অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ব: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত   

নরেন্দ্রপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে 

0

মাসুদ রানা বাবু ॥ পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের মতো তার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছেও উন্নয়নের পাশাপাশি হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে অপূর্ব ভ্রাতৃত্বের বন্ধন চাইলেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নবাসী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গতকাল নরেন্দ্রপুরে প্রচার-প্রচারণায় গেলে ইউনিয়নবাসী এমন এক সমাজের প্রত্যাশা করেন যেখানে সর্বস্তরে শান্তির পরশ ছড়িয়ে যাবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা এবং ঐক্যের অটুট বন্ধনে হিন্দু-মুসলিম সমাজে এক ছাতার নিচে বসবাস করতে পারবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও পিতার উন্নয়ন ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি, সৌহার্দ্যময় সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করলেন। তিনি বলেন, সমাজে আর প্রতিহিংসার আগুন জ্বলতে দেওয়া হবে না। সমাজের সকল স্তর থেকে প্রতিহিংসার আগুন চিরদিনের জন্য নিভিয়ে দেওয়া হবে।

রোববার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারণাকালে এভাবে অনিন্দ্য ইসলামের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন ইউনিয়নবাসী। সকাল থেকে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ফুলের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন তিনি।

প্রথমে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া থেকে প্রচারণা শুরু করেন। সাহাপাড়ায় প্রবেশ করতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলেই ফুল ছিটিয়ে তাকে বরণ করেন।

সাহাপাড়ার নারী বাসিন্দারা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার পিতা আমাদের চলাচলের রাস্তাটি তৈরি করেছিলেন। তিনি এই রাস্তায় ইট বসিয়েছিলেন। এরপর থেকে এই রাস্তার আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমাদের চলাচলে মারাত্মক কষ্ট হয়। আপনি আগামী দিনে সুযোগ পেলে রাস্তাটি সংস্কার করবেন।’

সাহাপাড়ায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন নরেন্দ্রপুর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা মোহন লাল দাস এবং চাউলিয়া দাসপাড়ায় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় মন্দির কমিটির নেতা শুকলাল দাস। তারা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনার পিতা তরিকুল ইসলাম ভারতের বাবরি মসজিদ কাণ্ডে নিজেই পাহারাদার হয়ে আমাদের সুরক্ষা দিয়েছিলেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর আপনার নির্দেশে আপনার দলের নেতাকর্মীরা আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি সুরক্ষা দিয়েছে। যে কারণে কোনো দুষ্কৃতকারী আমাদের গায়ে ফুলের টোকা দেওয়ার সাহস পায়নি। আমাদের জন্য আপনার পিতার দুয়ার উন্মুক্ত ছিল। উনি কখনো হিন্দু-মুসলিম দেখেননি। উনি আমাদের মন্দিরের উন্নয়ন করেছিলেন। আপনার পিতার মতো আগামী দিনে আপনার কাছে একই বিষয় প্রত্যাশা করি।’

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাদের প্রত্যাশা পূরণে দৃঢ় অঙ্গীকার করে বলেন, ‘আপনারা (সনাতন ধর্মাবলম্বী) নিজেদের ধর্মীয় সংখ্যালঘু ভাববেন না। আপনাদের সংখ্যালঘু কথাটি ভুলে যেতে হবে, নিজেদের দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। তরিকুল ইসলামের সন্তানের মতো এই মাটিতে আপনাদের সন্তানেরও সমান অধিকার রয়েছে। আপনাদের আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

বিগত আওয়ামী লীগ সময়ে ভোটারবিহীন জনপ্রতিনিধিরা আপনাদের দুর্বল এবং নতজানু করে শোষণ ও শাসন করেছিল। আমি এবং আমার দল সব সময় আপনাদের পাশে আছি। আমার প্রয়াত পিতার সাথে আপনাদের নিবিড় সম্পর্ক ছিল।’

তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে রাস্তাঘাট, স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়ন এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার পিতার নাম জড়িয়ে আছে। আপনারা তাকে ভোট দিয়ে এমপি-মন্ত্রী বানিয়ে আপনাদের উন্নয়নের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আগামী দিনে আপনারা আমাকে সেই সুযোগ দিলে পিতার উন্নয়নের ধারা ফিরিয়ে আনব। এই অঞ্চলের অবহেলিত রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরের উন্নয়নের যাত্রা নতুন করে শুরু করব। রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বন্ধুর মতো আপনাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।’

ঘোড়াগাছা সাহাপাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তিনি প্রচারণা শুরু করেন। এরপর তিনি শাখারিগাতি, হাটবিলা বাজার, রূপদিয়া বাজার, চাউলিয়া পূর্বপাড়া, চাউলিয়া দাসপাড়া, গোপালপুর, বলরামপুর এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং আগামী দিনে তাদের জন্য বিএনপির কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান মিঠু, নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির প্রমুখ।