বাজেটে দাম বাড়ছে সিগারেট-রড-তেলচালিত গাড়ির, কমছে ৬০ নিত্যপণ্য-ল্যাপটপ-বৈদ্যুতিক গাড়ির

0
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৬০টি নিত্যপণ্য, ওষুধ, শিশুখাদ্য ও ল্যাপটপে বড় ধরনের শুল্কছাড় দেওয়া হলেও দাম বাড়ছে cigarette ও তেলচালিত গাড়ির।। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় শুল্ককর পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুল্ককর কমানো পণ্যের সংখ্যাই বেশি। বাজেটের শুল্ককর প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়ে যায়।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

সিগারেটের ন্যূনতম খুচরামূল্য নিম্নস্তরে প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচে ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিবেশের ক্ষতি কমাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির তেলচালিত আমদানি করা গাড়ির করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ করা হয়েছে। রড তৈরির বিভিন্ন উপকরণে ভ্যাট বাড়ানোয় রডের দামও বাড়তে পারে।

দেশীয় উৎপাদন সুরক্ষায় বিদেশি কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে দেশীয় উৎপাদকদের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি করা পাঙাশ মাছের ফিলেতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডারে ভ্যাট আরোপ এবং বিদেশি মধু আমদানির শুল্কায়ন মূল্য ইউনিটপ্রতি ২ ডলার বাড়িয়ে ৭ ডলার করা হয়েছে। বিদেশি সুপারির শুল্কায়ন মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। সুগার কনফেকশনারি, কফি, তৈরি খাবার, লিপ লাইনার ও লিপ জেলসহ বিদেশি বিভিন্ন পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য বাড়ানো হয়েছে। এর বাইরে বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, সাইকেল ও যন্ত্রাংশ এবং খেলনার দামও বাড়তে পারে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ ৬০টি নিত্যপণ্যে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে কষ্ট হয়েছিল, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পদক্ষেপ স্বস্তি আনবে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বৈদ্যুতিক গাড়িতে বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হয়েছে। ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের বৈদ্যুতিক গাড়িতে করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়িতে ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। গাড়ি চার্জিং স্টেশনের ব্যাটারি ও সরঞ্জামেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি এবং বিআরটিএতে নিবন্ধন ও নবায়নে অগ্রিম আয়করও কমানো হয়েছে।

কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবার ডায়ালাইসিস সেবায় ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

জিরা, দারুচিনি, এলাচি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও ধনিয়াসহ বিভিন্ন মসলায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খেজুর আমদানিতেও একই হারে শুল্ক প্রত্যাহার হয়েছে। সোনা সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং ভরিপ্রতি ভ্যাট আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করায় সোনার গয়নার দাম কমবে।

আমদানি করা শিশুখাদ্য প্রস্তুতির কাঁচামালে আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় বাজারে শিশুখাদ্যের দাম কমবে। ওষুধের কাঁচামালে বিভিন্ন ছাড় এবং ক্যানসারের ওষুধ তৈরির নতুন ৯টি কাঁচামালে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বাদ্যযন্ত্র ও যন্ত্রাংশে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার এবং সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরায় আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি মাংস, প্রাণিখাদ্য, পয়েন্ট অব সেলস যন্ত্র, সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম, লিপস্টিক ও ফেসওয়াশসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর দামও কমতে পারে।