বাঘারপাড়ায় কাজে আসছে না অর্ধকোটি টাকার সেতু

0

প্রদীপ বিশ্বাস, বাঘারপাড়া (যশোর)॥ নির্মাণের সাত বছর পার হলেও এখনো হয়নি সংযোগ সড়ক। ওঠেনি কোনো ভারি যানবাহন। অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করলেও জনগণের কোনো কাজে লাগেনি। বসতবাড়ির ওপর দিয়েই উঠতে হয় সেতুটিতে। এতে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দরাজহাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত চিত্রা নদীতে সেতুটি নির্মাণ করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও)। এতে ৫৪ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত স্থানে সেতুটি নির্মাণ করায় আজও ভারি কোনো যানবাহন এর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারেনি। স্থানীয়দের জ্বালানি শুকানোর কাজেই ব্যবহার করা হচ্ছে সেতুটিকে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু/কালভার্ট কর্মসূচির অধীনে পাইকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৬০ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৬শ ৫১টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এ কাজটি শেষ করে মেসার্স কুমকুম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পে সেতুটি খালের ওপর নির্মাণের কথা বলা হলেও স্থানীয়রা বলছেন চিত্রা নদীতে নির্মিত হয়েছে।

??

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের বাঘারপাড়া সেতু থেকে এঁকে বেঁকে জলেশ্বর বিলের মধ্যে দিয়ে যশোর-নড়াইল সড়কের পাশে দাইতলায় মিশেছে চিত্রা নদী। এর পাইকপাড়া অংশেই নির্মিত হয়েছে সেতুটি। সেতুটি উত্তর দক্ষিণে লম্বালম্বি। এর ওপর জ¦ালানি ও গোবরের বড়ে শুকাতে দিয়েছে স্থানীয়রা। সেতুটির উত্তরে পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শিপনের বাড়ি। দক্ষিণে সুশান্ত বিশ্বাসের বাড়ি। সেতুটির উত্তরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে ইটের সোলিং রাস্তা বাঘারপাড়া-খাজুরা সড়কের রামকান্তপুর মোড়ে মিশেছে। উত্তরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহার করা গেলেও দক্ষিণে সুশান্তসহ অন্তত ৫টি বসতবাড়ি মাড়িয়ে সেতুটির ওপর উঠতে হয়। এসব বসতবাড়িতেই প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা।
সেতুর দক্ষিণ পারের বাসিন্দা রেনুবালা, কবিতাসহ একাধিক নারী অভিযোগ করেন, আমাদের বাড়ির ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল করে। শিশুরা বাড়ির উঠানে খেলার সময় কয়েকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা চাই, সেতুটিতে যাতায়াতে বাড়ির বাইরে দিয়ে রাস্তা তৈরি করে সেখান দিয়ে এসব যানবাহন চলুক।
পাইকপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) শিপন বলেন, সেতুটির স্থানে আগে বাঁশের সাঁকো ছিল। পাইকপাড়ার দক্ষিণপারের ছেলেমেয়েরা এ সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসতে ভয় পেতো। ২০১৬ সালে স্থানীয় মেম্বার হিসেবে সে সময় কর্মরত পিআইও স্যারকে পাইকপাড়া খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করার অনুরোধ করি। পিআইও স্যার আমার অনুরোধে ব্রিজটি নির্মাণ করেন ও সুশান্ত বিশ্বাসের বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে এর সড়কও নির্মাণ করেন। কিন্তু চিত্রা নদী খননের সময় সে সংযোগ সড়কটি কাটা পড়ে যায়। পরে আর কেউ খবর নেয়নি।
পাইকপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, সে সময় ক্ষমতার জোরে এ স্থানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। পথচারী ছাড়া এর ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, এর কয়েকগজ দক্ষিণে সরকারি হালট আছে। সেখানে পূর্ব-পশ্চিমভাবে বা শচীনের বাড়ি ও জিল্লুর রহমানের বাড়ির মাঝে সেতুটি নির্মাণ করা হলে জনগণের কাজে লাগতো।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ জানান, এটা অনেক আগের কাজ। এখানে আমি মাস কয়েক আগে যোগদান করেছি। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থাকলে তা করা হবে।