বাগেরহাটে হাট বাজারে কয়েকগুণ রাজস্ব আদায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের ক্ষোভ

0

আলী আকবর টুটুল,বাগেরহাট॥ বাগেরহাটের বিভিন্ন হাট-বাজারে সরকারি রেটের কয়েকগুন খাজনা আদায় করছেন ইজারাদাররা। ইজারাদারের চাপের মুখে ক্রেতা-বিক্রেতারা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত খাজনা দিতে।এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া সরকারি খাজনার (টোল)রেট হাট-বাজারের প্রক্যাশ্যে টানানোর কথা থাকলেও জেলার বেশিরভাগ হাটে তা নেই।যার ফলে ইজাজারাদার ও খাজনা আদায়কারীরা ইচ্ছেমত শোষন করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের। রবিবার দুপুরে কচুয়া উপজেলার সব থেকে বড় বাজার বাধাল হাটে গিয়ে দেখা যায় সরকারি টোল নির্ধারণ করা কোন রেট চার্ট নেই সেখানে। ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পন্য বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানাযায় সরকারি রেট সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই। খাজনা আদায়কারীরা যে পরিমান টাকা চায় সেই, টাকা দিতে হয় তাদের। এই বাজারে খুচড়া বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিটি গরু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতাকে ১ হাজার থেকে ১৫০০ টাকা, ছাগল বিক্রির উপর শতকরা ৯ টাকা, হাস-মুরগি শতকরা ৭ টাকা, মাংসের দোকান-৩০০ টাকা, কাঁচামাল-সবজি বিক্রেতা চটি প্রতি ১২০ থেকে ২০০ টাকা, তরমুজ ২৫০ টাকা, কাপড় ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মশলা ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ভ্রাম্যমান খাদ্য পন্য ৬০ টাকা, মাছ ১২০ টাকা, মিঠা ৫০ টাকা, বাশের তৈরি ঝুড়ি-ঝাকা-২০ থেকে ৩০ টাকা, পান ২০০ টাকা, গুড়(মিঠা) ৫০ টাকা খাজনা প্রদান করতে হয়। এরবাইরে পাইকারি ক্রয়-বিক্রয়েও প্রতিহাটে বিপুল পরিমান খাজনা তোলা হয়।

এর বিপরীতে জেলা প্রশাসন নির্ধারিত সরকারি রেট ছাগলে ক্রয় মূল্যের ৫ শতাংশ, মাংসের দোকান প্রতি ১০ টাকা, পান ৬ টাকা, মশলা ৭ টাকা, তরমুজ ও অন্যান্য ফল ৫ টাকা, গুড়-মিঠা ৬ টাকা, ২ টাকা, ক্রেতা ২ শতাংশ, কাঁচামাল-সবজি ৬টাকা, মশলা দোকান প্রতি-৭ টাকা রয়েছে।সরকারি রেটের অতিরিক্ত এত বেশি খাজনা আদায় করলেও যেন দেখার কেউ নেই। বাধাল বাজারে নিয়মিত কাঁচামাল ব্যবসায়ী রাজিব তালুকদার বলেন, ৩-৪ হাত জায়গায় ছালার চট বিছিয়ে বসলেই ১২০ টাকা দিতে হয়। অনেক সময় দুইশ টাকাও দিতে হয়। আর না দিলে আমাদেরকে বসতে দেওয়া হয় না। জাহিদুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, শুনেছি হাটে খাজনা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি রেট রয়েছে। কিন্তু আমরা কোনদিন সরকারি রেট সম্পর্কে জানিনা, দেখিওনি। জানতে চাইলে অনেক খারাপ ব্যবহার করে আমাদের সাথে ইজারাদারের লোকেরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি হাট-বাজার গুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীরা ইজারা নেয়। যার ফলে তারা তাদের ইচ্ছে মত জোরজবদস্তি করে খাজনা আদায় করে। সেক্ষেত্রে আমাদের মত সাধারণ ব্যবসায়ীরা সরকারি রেট দেখার কথা বললে মার খেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসাও বন্ধ করে দিতে হয় আমাদের। শুধু বাধাল নয়, কচুয়া উপজেলার কচুয়া, সাইনবোর্ড, গজালিয়া, মোরেলগঞ্জে দৈবজ্ঞহাটি, কালিকাবাড়ি, সন্যাসি, মোরেলঞ্জ, সদর উপজেলা যাত্রাপুর, মাদরাসাবাজার, বাগেরহাট শহরের কাঁচা বাজারসহ জেলার ১৫৪টি হাটের বেশিরভাগি হাটে একই ভাবে বেশি খাজনা আদায় করা হয়। একই পন্যের বারবার খাজনা আদায়ের ঘটনাও রয়েছে। যার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে পন্যের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের ।

বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নীহার রঞ্জন সাহা বলেন, হাট-বাজারে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দাম বেড়ে যায়। এ বিষয়ে সরকারি কোন তদারকিও নেই।১৩ মার্চের জেলা আইনশৃঙ্খলা কিমিটর সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোন সমাধাণ হয়নি। অতিদ্রুত প্রতিটি হাটে সরকার নির্ধারিত রেট টানিয়ে দিয়ে সহনীয় পর্যায়ের খাজনা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। বাধাল বাজার ইজারাগ্রহনকারী নাজমা আক্তারের পক্ষে খাজনা আদায়কারী সরোয়ার হোসেন বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি রেটের থেকে কম নেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে বেশিও নেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় মিথ্যা কথাও বলে আমাদের নামে। সরকার নির্ধারিত খাজনার রেট প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শণের বিষয়ে সরোয়ার হোসেন বলেন, এটা ইজারাদাররা টানায় না, এটা জেলা প্রশাসনের টানানোর কথা। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকার নির্ধারিত রেট চার্ট প্রকাশ্য স্থানে টানানোর ব্যবস্থা করতে।