বাগেরহাটে হাজারো অতিথির পাখির কলতানে মুখরিত মিনি সুন্দরবন

0

 

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট॥ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বাগেরহাটের লোকালয়ে মিনি সুন্দরবন এখন পাখির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। হাজারো পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে চিত্রা নদীর পাড়। দূর- দূরান্ত থেকে নানা প্রজাতির পাখি দেখতে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। মিনি সুন্দরবনকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের।
বাগেরহাট সদর, ফকিরহাট ও চিতলমারী উপজেলার মিলনস্থল উজলপুর চিত্রা নদীর উপর ব্রিজের ওপরে দাঁড়ালে চোখে পড়ে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য। নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বসবাসের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে পাখির সংখ্যা। এদিকে ব্রিজের ওপর বিভিন্ন ধরনের মুখোরোচক খাবারের দোকান বসেছে।
সূর্যের আলো ফোঁটার সাথে সাথেই পাখিগুলো খাদ্যের সন্ধানে ছুটে যায় বিভিন্ন প্রান্তে। আবার গোধুলি লগ্নে চারিদিক থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে হাজার, হাজার পাখি ছুটে এসে আশ্রয় নেয় চিত্রা নদীর পাড়ের নানাপ্রজাতির গাছে। পাখি দেখতেই প্রতিদিন ভিড় করেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাখি প্রেমীরা। কেউ পরিবার নিয়ে আবার কেউ বন্ধুদের সাথে ঘুরতে আসছেন এই মিনি সুন্দরবনে। প্রতিবছর প্রায় ৬ মাস ধরে লাখোপাখি এই মিনি সুন্দরবনে অবস্থান নেয়।
স্থানীয় এজাবুল মোড়ল বলেন,‘পাখি শিকার বা তার ক্ষতি হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার হয়। যাতে কেউ পাখিদের বিরক্ত না করে সেজন্যে এলাবাসীর সহায়তায় নেয়া হয়েছে। এখানে সারস, পানকৌড়ি,সাদা বক, শামুক ভাংগাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনায় মুখরিত থাকায় দর্শনার্থীরা এখানে এসে অন্যরকম আনন্দ উপভোগ করছেন। পাখির সাথে কেউ ছবি তুলছেন আবার কেউ সেলফি করছেন।
খুলনা লবনচরা এলাকার জুয়েল দম্পত্তি বলেন, শীতের সময় আমাদের আশপাশ এলাকায় সচারচর অতিথি পাখি দেখা যায় না। মিনি সুন্দরবনে এসে পাখি দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। এতো হাজার হাজার পাখি এক সঙ্গে দেখে আমরা অবিভূত।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মুলঘর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিটলার গোলদার বলেন,প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠেছে সুন্দরবন। চিত্রা নদীর তীরে জন্ম নিয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা প্রজাতির গাছপালা। কয়েক বছর ধরে এসব গাছে শীত মৌসুমে হাজার হাজার পাখি আশ্রয় নেয়। এ কারণে প্রতিদিন শ শ দর্শনার্থী পাখি দেখতে ভিড় করেন। স্থায়ীভাবে পাখির অভয়াশ্রম ও মিনি সুন্দরবন হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কাছে দাবি জানান স্থানীয় এই জনপ্রতিনিধি।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজেই কয়েকবার মিনি সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে অতিথির পাখির অভয়াশ্রম ও মিনি সুন্দরবন সংরক্ষণ করা হবে। অচিরেই স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও তিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সভা করে পযর্টন জোন হিসেবে পরিকল্পনা নেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।