যশোরে ৩ লাখ ৪৪ হাজার শিশু পেল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পুষ্টিহীনতা ও রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি এবং সুস্থ-সবল জাতি গঠনের লক্ষ্যে সারা দেশের মত যশোরে পৌরসভাসহ ৮টি উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিন জেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৪ জন শিশুর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। কর্মসূচির অর্জনের হার ৯৯.৩১ শতাংশ। তবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার ১০ হাজার ২০৬ জন শিশু ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ পড়েছে। আগামী চার দিন এই বাদ পড়া শিশুদের খোঁজ করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার সকাল ৯টায় উপশহর শিশু হাসপাতালে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুস সাদিক, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইউসুফ আলী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডঐঙ) যশোর প্রতিনিধি ডা. সামিনা জামান, যশোর শিশু হাসপাতালের পরিচালক ডা. নু-ই-হামিম।

জেলায় মোট ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২৬৪ জন শিশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪৩ হাজার ৬৪২ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে (অর্জনের হার ৯৮.৯৫%)। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৪১৬ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে (অর্জনের হার ৯৯.৩৭%)। ভিটামিন গ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৪৬ জন প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে।

জেলায় মোট ২ হাজার ৩০১টি কেন্দ্রে একযোগে এই কর্মসূচি চলে। এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্র ৯টি, আউটরিচ কেন্দ্র ২ হাজার ২৫৬টি, অতিরিক্ত কেন্দ্র ৩০টি এবং ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র ছিল ৬টি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ১ হাজার ৩৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৪ হাজার ৪৭৯ জন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবীসহ মোট ৫ হাজার ২১৭ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “শিশুরা জন্মের পর অনেকের দেহে ভিটামিন ‘এ’ এর ঘাটতি থেকে যায়। বিশেষ করে শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়, যার ফলে রাতকানা রোগ হতে পারে। লাল শাক, পাকা কলা, মিষ্টি কুমড়া, পাকা আমসহ বিভিন্ন ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ালে এই অভাব কিছুটা দূর হয়। সরকার সুস্থ-সবল জাতি গঠনে শিশুদের বিনামূল্যে এই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম দিনে যে ১০ হাজার ২০৬ জন শিশু বাদ পড়েছে, আগামী চার দিন মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে তাদের শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা হবে।