বাগেরহাটে মাজার দিঘির কুমির টেনে নিয়ে গেছে ৭ বছরের শিশুকে

0

বাগেরহাট সংবাদদাতা, লোকসমাজ : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘির একটি কুমির সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দিঘির মহিলা ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ শিশুটির নাম ফাতেমা। মাজারের খাদেম ও সাবেক যুবদল নেতা ফকির তারিকুল ইসলাম জানান, ফাতেমা মাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে মাজার এলাকাতেই বসবাস করত।

তিনি বলেন, “ফাতেমা ঘাটে গোসল করতে নেমেছিল। এ সময় একটি কুমির তাকে টেনে নিয়ে যায়।”

খান জাহান আলী মাজারের দিঘিতে কুমিরের হামলার পর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাত পর্যন্ত শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও অন্যরা ঘাটের ওপরে অবস্থান করছিলেন। ফাতেমা মহিলা ঘাটে নামার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি কুমির তাকে কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে এলেও তাকে আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে তল্লাশি চালান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর বাগেরহাট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, “কুমির যেহেতু হিংস্র প্রাণী, তাই পানিতে নামাটা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার রাতের সময় হওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও আমরা খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছি।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন এবং পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তারা উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।

গত এপ্রিলেও দিঘির একটি কুমির একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তখন লোকালয়ের মধ্যে অবস্থিত একটি দিঘিতে কুমির রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

স্থানীয়দের মতে, মাজারের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে কুমির সংরক্ষণ করা হলেও বর্তমানে দিঘিতে থাকা একমাত্র স্ত্রী কুমিরটি ঐতিহাসিক ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’-এর বংশধর নয়।

লোককথা অনুযায়ী, হজরত খানজাহান আলী (রহ.) দিঘি খননের পর সেখানে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরবর্তীতে পুরুষ কুমিরের নাম রাখা হয় ‘কালা পাহাড়’ এবং স্ত্রী কুমিরের নাম ‘ধলা পাহাড়’। দীর্ঘদিন ধরে তাদের বংশধরদেরও একই নামে ডাকা হতো। সর্বশেষ বংশধর কুমিরটির মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

পরে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে অবমুক্ত করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ কুমির মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা গেলে বর্তমানে দিঘিতে একটি কুমিরই রয়েছে।