বাগেরহাটে অবৈধ স্থাপনার কারণে শেষ হচ্ছে না বিষখালী নদী পুনঃখনন

0

আলী আকবর টুটুল, বাগেরহাট॥ অবৈধ স্থাপনার কারণে সময় বাড়িয়েও বিষখালী নদী পুনঃখনন শেষ করতে পারছেনা বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফসলি জমি চাষাবাদে দ্রুত খাল খনন শেষ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নদী খননের আগে জরিপের পরে কিছু অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলেন প্রভাবশালীরা। নোটিশ দেওয়ার পরও তাদের স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় খনন কাজে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদী বিষখালী দীর্ঘদিন খনরের অভাবে ভরাট হয়ে যায়। পানির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে সেচের সংকট দেখা দেয়, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেখানকার মানুষ। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে নদীটি পুনঃখননে জরিপ কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০২৩ সালে দরপত্র আহবানের মাধ্যমে প্রায় ২৪ কিলোমিটার নদী খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্ধারিত সময়ে অধিকাংশ জায়গা খনন করা হলেও দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী রামচন্দ্রপুর ও সাগরকাঠি এলাকায় কয়েকটি স্থাপনার কারণে খনন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় আব্দুল জব্বার নামে এক বৃদ্ধ বলেন, এই নদী দিয়ে বড় বড় ট্রলার ও নৌকা চলাচল করতে দেখেছি। কিন্তু নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমাদের এলাকার মানুষ চাষাবাদে পানি পাচ্ছে না।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুন্নবী বলেন. সিএস রেকর্ড ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করে খাল খনন কাজ শুরু করা হয়। অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ ও মাইকিং করার পরেও রামচন্দ্রপুর ও সাগরকাঠি এলাকায় কয়েকটি স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় খনন কাজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মাদ আল বিরুনী বলেন, কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়া হলে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ সম্পন্ন করে খাল খনন করা হবে।