প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দলীয় ত্রাণ কমিটি ঘোষণায় ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা

0

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির (মার্কসবাদী) সভাপতি নুরুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ এক বিবৃতিতে গতকাল প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের ত্রাণ কমিটি গঠন ও প্রশাসনিক সহায়তার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশের এই মহা দুর্যোগ মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলি ও আপামর জনগণ যখন সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের দাবি করছেন তখন এই ঘোষণা অনাকাঙ্খিতই শুধু নয়, গণবিরোধী। যা দেশের জন্য আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির পথ প্রশস্ত করবে। ইতিমধ্যে দুই শতাধিক স্থানে ত্রাণের খাদ্য দুর্নীতিতে অধিকাংশই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পরিচয় পাওয়া গেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত দলীয় দুর্নীতিবাজদেরকেই সুযোগ করে দেবে।
নেতৃবৃন্দ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য মজুত ব্যবস্থা, পরিবহণ ও বিতরণের জন্য সেনাবাহিনীর ওপর পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ, করোনা চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর ‘মেডিকেল কোর’কে সংযুক্তকরণ এবং সারাদেশকে কার্যকর লকডাউনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েই চলেছে। বুভুক্ষু মানুষ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভে সামিল হচ্ছেন। অথচ দুই শতাধিক স্থানে ত্রাণের চালের দুর্নীতি ধরা পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় তার স্বীকৃতি রয়েছে। চোরদের রাজনৈতিক পরিচয় তাঁরই সরকারি দলের লোক। তাদের মধ্যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এ অরস্থায় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলার বিকল্প পথ নেই।নেতৃবৃন্দ বলেন, এই মুহূর্তে আমরা এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে সর্বদলীয় সভা ডেকে জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠনের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ত্রাণ কর্মকাণ্ড দলীয়করণের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাচ্ছি একই সাথে গ্রাম-পাড়া-মহল্লাসহ সর্বস্তরে দলমত নির্বিশেষে সার্বজনীন সুরক্ষা গণকমিটি গড়ে তোলার জন্য আহবান জানাচ্ছি। বিজ্ঞপ্তি।