প্রতিকূলতায় পুরো সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছে না মোংলা বন্দর, উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ: চেয়ারম্যান

0
ছবি: সংগৃহীত।

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা ॥ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেছেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে তার পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না। তবে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বাগেরহাটে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর। কিন্তু এর সিংহভাগ কার্যক্রম একটি বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। একটি অঞ্চল বা বন্দরের ওপর অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি নির্ভর করা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে মোংলা বন্দরের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি জানান, মোংলা বন্দরের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় একটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

পাশাপাশি মোংলা বন্দর এলাকায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।

রিয়ার এডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে গম ও চাল আমদানির নির্দেশনা দিয়েছে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সার ও ডাল আমদানিও এ বন্দরের মাধ্যমে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও খাদ্যশস্যের চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে বন্দরের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয়ও কমবে।

নাব্যতা সংকট বড় চ্যালেঞ্জ
মোংলা বন্দরের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চ্যানেলের নাব্যতা রক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “ইনার বার ও আউটার বার এলাকায় ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নদীশাসনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে চ্যানেল সচল রাখার জন্য একটি সমীক্ষা (স্টাডি) পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর ড্রেজিংয়ের ব্যয় কমে আসবে।”

তিনি আরও বলেন, বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে পরিচালিত মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরে এবং মাত্র ২ শতাংশ মোংলা বন্দরে সম্পন্ন হয়। নাব্যতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে মোংলা বন্দরের ব্যস্ততা ও সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

আয়-ব্যবসা বেড়েছে
মতবিনিময় সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোংলা বন্দরের কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে মোংলা বন্দরে ৮১৫টি জাহাজ আগমন করেছে। একই সময়ে ১২২ দশমিক ৫১ লাখ মেট্রিক টন কার্গো এবং ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউস (ঞঊটং) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।
এ ছাড়া মোংলা বন্দর দিয়ে ১২ হাজার ৭৫টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি হয়েছে। অর্থবছরজুড়ে বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী শেখ শওকত হোসেন, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বন্দরের বর্তমান অবস্থা, উন্নয়ন কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।