পাইকগাছায় ঘুঘুকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে ঘুঘু শিকারে মেতে উঠেছে শিকারীরা

0

এইচ এম শফিউল ইসলাম, কপিলমুনি (খুলনা) ॥ খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় নিষ্ঠুরতায় মেতে উঠেছে পাখি শিকারীরা। এক দল শিকারী ঘুঘুকে ফাঁদ করে ঘুঘু শিকার করছে। পাখিসহ সকল বন্যপ্রাণী হত্যা আইনত দ-নীয় অপরাধ জেনেও শিকারীরা নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
মাংস খাওয়ার জন্য ঘুঘু শিকারের প্রবণতা বেশি। শরীরের শক্তিবৃদ্ধিতে বা দুর্বল পুরুষের সবল হতে ঘুঘুর মাংস খাওয়ার অদ্ভুত এক ধারণা প্রচলিত আছে এ অঞ্চলের কিছু মানুষের মধ্যে। যার কারণে পরিযায়ী পাখির বাইরে মাংস খাওয়ার জন্য ঘুঘু পাখিকেই বেশি শিকার করা হয়।
উপকূলের পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুঘু দিয়ে ঘুঘু ধরা শিকারীদের তৎপরতা বেড়েছে। সম্প্রতি পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ও গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে শিকারীর কাছে ঘুঘু ও ঘুঘু ধরার ফাঁদ দুইয়েরই দেখা মিলেছে।
ঘুঘু ধরার ফাঁদ ও পদ্ধতি বেশ অভিনব। বাঁশের একটি খাঁচার ভেতরে জীবন্ত ঘুঘু পাখি রেখে দেওয়া হয় খাবার দিয়ে। খাঁচাটি জাল ও লতাপাতা দিয়ে জড়িয়ে রাখা হয়, যাতে সহজে দৃষ্টিগোচর না হয়। যেখানে ঘুঘু পাখির বেশি আনাগোনা বা আবাসস্থল আছে এমন বাঁশঝাড় ও উঁচু গাছ সংলগ্ন ধান বা সবজি ক্ষেতে পাখির আনাগোনা দেখে লম্বা বাঁশ জোড়া দিয়ে খাঁচাটি পেতে রাখা হয়। শিকারী নিরাপদ দূরত্ব থেকে পর্যবেক্ষণ করে খাঁচাটি। খাচার ভেতর বন্দী ঘুঘু পাখি ডাকাডাকি শুরু করে। সেই ডাকে আশপাশে বিচরণ করা পাখিরা আকৃষ্ট হয়ে খাঁচার কাছে আসে খাবারের লোভে অথবা বন্দী ঘুঘুকে মুক্ত করতে কিংবা দেখতে। খাঁচার খুব কাছে গিয়ে খাঁচায় পা অথবা ঠোঁট বাড়িয়ে দিলেই জালে জড়িয়ে আটকে যায় ঘুঘু। দূর থেকে শিকারী ছুটে এসে খাঁচার ফাঁদটি নামিয়ে ঘুঘুটি ধরে ফেলে।
সম্প্রতি উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের প্রতাপকাটি গ্রামের সানু ও শহিদুল গাজী, গদাইপুর ইউনিয়নের চেচুয়া গ্রামের করিম গাজীকে ঘুঘু ও ঘুঘু ধরার ফাঁদ নিয়ে শিকারে যেতে দেখা গেছে। কপিলমুনি ইউনিয়নের নাছিরপুর গ্রামের কৃষক সানু (৬০) কে দেখা যায় শীতের ভোর বেলায় একটি খাঁচায় বন্দী ঘুঘু পাখি নিয়ে ঘুঘু ধরার জন্য যাচ্ছেন। বাঁশঝাড় ও উঁচুগাছের কাছে ধান ও সবজি ক্ষেতে ঘুঘু ধরার জন্য ফাঁদ পাতবেন। খাঁচাবন্দী ঘুঘু পাখি নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, খাঁচায় বন্দী এই ঘুঘু পাখি দিয়েই ঘুঘু পাখি ধরি। শখের বসে এভাবে পাখি ধরে রান্না করে খান সানু। পাখি শিকার করা অন্যায় জানালে তিনি বলেন, শুনেছি পাখি পরিবেশের উপকার করে। তবে শখ করে মাঝে মাঝে পাখি ধরি।
উপজেলার পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান বলেন,পাখিসহ সকল বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, লালন-পালন, ক্রয়-বিক্রয় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন- ২০১২, অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ।
এ বিষয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির গুরুত্ব অপরিসীম। পাখিরা শুধু প্রকৃতির শোভাবর্ধনই করে না,পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করে। তিনি পাখি শিকার বন্ধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।