পাঁচ দফা দাবিতে যশোরের ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির স্মারকলিপি প্রদান

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাঁচ দফা দাবিতে রোববার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে যশোরের ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রফিকুল হাসান।
সংগঠনের আহবায়ক রনজিত বাওয়ালির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ভবদহ জনপদের প্রায় ২শ গ্রামের প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে ১০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে পানির নিচে তলিয়ে যেতে বসেছে। উদ্ভব হয়েছে মহাবিপর্যয়কর পরিস্থিতি। পানি উন্নয়ন বোর্ড, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ঠিকাদার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও ঘের মালিকরা সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতি বছর জনগণকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা লুটের স্থায়ী ব্যবস্থা করে নিয়েছে। তাদের কাছে ভবদহ হলো ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে’। এই চক্র এতই ক্ষমতাবান যে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ধৃষ্টতা দেখিয়ে ভবদহ স্লুইস গেট থেকে মোহনা পর্যন্ত ৫০/৬০ কিলোমিটার নদী ভরাট করে ফেলেছে। পানি বেরোনোর পথ রুদ্ধ। এই পরিণতির কথা বারবার বলা সত্বেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তাতে কর্ণপাত না করে জনপদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো-৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ অবিবেচনাপ্রসূত সেচ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। ডেল্টা প্লান-২১০০ এর সুপারিশ বাস্তবায়ন ও ক্রাস প্রোগ্রামে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কাজ দ্রুত করতে হবে। প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দিতে হবে। কাজের স্বচ্ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন. জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করে তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে। খালের গেট ওঠানামা বন্ধ করার সাথে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কৃষি ঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সাথে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের মানুষের রাস্তায় উঠে প্রতিবাদ করা ছাড়া কোন পথ খোলা থাকবে না বলে স্মারকলিলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, আহ্বায়ক রনজিৎ বাওয়ালি, জিল্লুর রহমান ভিটু, অধ্যক্ষ চৈতন্য কুমার পাল, শিবপদ বিশ্বাস, শেখর বিশ্বাস, রাজু আহমেদ, অধ্যাপক অনিল বিশ্বাস, জুয়েল মোল্ল্যা, হাসিনুর রহমান প্রমুখ।