পরীক্ষার ফিস না দেওয়ায় শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

শিক্ষার্থী রাফিন হোসেন এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

0

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা॥ মহেশপুর উপজেলার বলিভদ্রপুর, রামচন্দ্রপুর, আজমপুর, কাশিপুর, সৈয়দপুর (বিআরএ কেএস) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার ফি দিতে দেরি করায় হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থী রাফিন হোসেন আজমপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রপুর গ্রামের চঞ্চল হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীর পরিবার। এখন তাদের অর্ধবাষিক পরীক্ষা চলছে।

শিক্ষার্থী ও তার পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে বিদ্যালয়ে যায় রাফিন। পরীক্ষা চলাকালীন সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন তার কাছে পরীক্ষার ফি চান। তখন রাফিন পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে কয়েক দিন পর ফি পরিশোধের কথা জানায়। কিন্তু শিক্ষিকা তাকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যান।

রাফিনের ভাষ্য, সে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের কাছে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্যে অনুনয়-বিনয় করে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন, ফি ছাড়া কোনোভাবেই পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। তাকে অবিলম্বে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যায় রাফিন

রাফিনের পিতা চঞ্চল হোসেন জানান,পারিবারিক ঝামেলার কারণে ফি দিতে একটু দেরি হয়েছিল। কয়েক দিন পর দেব সে কথা সহকারী শিক্ষিকাকেও জানানো হয়েছিল। তার পরও আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হলো।

বি আর এ কে এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু সাইদ খান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি মাত্রই অবগত হলেন। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে দ্রত তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।