পদ্মা সেতু : উপেক্ষিতই থাকছে যশোর জংশন

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর জংশনকে উপেক্ষা করেই পদ্মাসেতু হয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ভাঙ্গা-নড়াইল হয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। এদিকে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির’ নেতারা বলছেন, বৃহত্তর যশোর এলাকার মানুষের দাবি মানা না হলে রেল যাত্রী টানতে ব্যর্থ হবে। অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যশোর।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আফজাল হোসেন জানান, ডিসেম্বরের ১ বা ২ তারিখে বহুল প্রতিক্ষিত নতুন এই রেলপথ চালু হতে পারে। এ বিষয়ে অনেকটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তবে এটি কোনো কারণে পরিবর্তনও হতেও পারে।
তিনি বলেন, যশোর থেকে ট্রেনযোগে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ও ভ্রমণের সময় কমে অর্ধেকে নামবে। মাত্র তিন ঘণ্টায় ঢাকা থেকে যশোর অথবা যশোর থেকে ঢাকা যাওয়া যাবে।


তবে খুলনা রুটের ট্রেন ধরতে যশোরের যাত্রীদের ব্যবহার করতে হবে পদ্মবিলা জংশন। যা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। এটা ট্রেনযাত্রীদের জন্য নতুন বিড়ম্বনা সৃষ্টি করবে বলে অনেকে মনে করছেন।
‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম, আহ্বায়ক কাওসার আলী জানান, আমরা বেনাপোল-ঢাকা রুটে দিনে দুটি, দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে দুটি এবং যশোর থেকে যমুনা সেতু হয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা, ট্রেনের ভাড়া সাশ্রয়ী রাখা, যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে সবজি ও ফুলবাহী বগি সংযুক্ত করা প্রভৃতি দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। কিন্তু সরকার আমাদের যদি দাবি না মেনে তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে তাহলে সেটি খুবই দুঃখজনক। আমরা আশা করছি শেষ সময়ে সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে। নইলে এর বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে এই রেলপথ ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, নড়াইল হয়ে যশোরকে সংযুক্ত করেছে। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার এই মেগাপ্রকল্প থেকে ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি এক হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা খরচ কাটছাঁট করেছে। বর্তমানে যশোর হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য দিনে তিনটি ট্রেন রয়েছে। এর মধ্যে বেনাপোল এক্সপ্রেস ও আন্তঃনগর সুন্দরবন পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াত করে। আর আন্তঃনগর চিত্রা এখনো যমুনা সেতু হয়ে চলছে। প্রতিটি ট্রেন সপ্তাহে এক দিন বিরতি আছে। নতুন রেললাইন উদ্বোধনের পর রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-খুলনা রুটের ট্রেনগুলো যশোরের নবনির্মিত পদ্মবিলা জংশন ব্যবহার করবে। তার মানে এই রুটের ট্রেনগুলো ১৮৮৩ সালে নির্মিত দেশের অন্যতম প্রাচীন জংশন যশোরে আসবে না। রেলওয়ের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যশোরের বড় অংশের মানুষের জন্য ঢাকা যাতায়াতে বেনাপোল এক্সপ্রেসই প্রধান ভরসা থাকছে।
অন্যদিকে দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস না দিলে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মোবারকগঞ্জ স্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীদের ট্রেনে ঢাকা যাতায়াতের সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।