নড়াইলের চাঁনমিয়া হত্যার সাত বছর পর রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইলের মাগুরা গ্রামের চাঁনমিয়া হত্যার ৭ বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে যশোরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরকীয়ার কারণে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিলো। এই হত্যার সাথে জড়িত মকিদুল শেখ (৩৭) নামে এক যুবককে গত রোববার দুপুরে আটক করেছে পিবিআই। সোমবার তাকে নড়াইলের আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মকিদুল শেখ নড়াইল সদর উপজেলার মাগুরা গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে।
পিবিআই জানায়, ২০১৫ সালের ৮ মার্চ রাত নয়টার দিকে বা কারা চাঁনমিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে বাড়ির পূর্বপাশের একটি মেহগনি বাগান থেকে গলায় রশি বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই উজ্জল শেখের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নড়াইল সদর থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলাটি প্রথমে নড়াইল সদর থানার পুলিশ তদন্ত করে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেয়। মামলার বাদী থানা পুলিশের দেয়া ফাইনাল রিপোর্টের ওপর নারাজি জানালে আদালত মামলাটি সিআইডি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ অনুরুপ মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করে আদালতে। সিআইডি পুলিশের দেয়া ফাইনাল রিপোর্টের ওপর বাদী ফের নারাজি দিলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই যশোরকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত ৭ মার্চ পিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করে। এখান থেকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই মিজানুর রহমানকে। এরপর বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা গত রোববার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন মকিদুল শেখকে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁনমিয়া হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তিনি। কী কারণে তাকে খুন করা হয়েছে তাও পিবিআইকে জানিয়েছেন মকিদুল শেখ।
পিবিআই আরও জানায়, মকিদুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চাঁনমিয়া ও মকিদুল শেখের বাড়ি পাশাপাশি। মকিদুলের ছোটভাই একাদুলের স্ত্রীর সাথে চাঁনমিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে একাধিকবার চাঁনমিয়াকে জরিমানা করা হয়। পরকীয়ার কারণে চাঁনমিয়ার স্ত্রীও স্বামীকে তালাক দিয়ে চলে যান। সূত্র জানায়, ছোটভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে মকিদুল শেখসহ অন্যরা চাঁনমিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন রাতে মকিদুল শেখসহ অন্যরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী চাঁনমিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তাকে হত্যা করে গলায় একটি রশি পেঁচিয়ে ওইদিন গভীর রাতে বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানের ভেতর চাঁনমিয়ার লাশ ফেলে রেখে যান তারা।