নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে

0
ছবি: সংগৃহীত।

বাগেরহাট সংবাদদাতা॥ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নানা সংকটের মধ্যেও সক্ষমতার জানান দিচ্ছে বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কয়লা সংকট ও নানা প্রতিবন্ধকতায় বিভিন্ন সময়ে উৎপাদন ব্যাহত হলেও, চালু থাকা ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় এই কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি চাহিদা মোকাবিলাতেও সহায়তা করবে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদিনই জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (চএঈই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে কেন্দ্রটি শতভাগ প্রবাহ বজায় রেখে মোট প্রায় ৬৪ কোটি ৩৬ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। এই বিদ্যুৎ ১,৩২০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার পরিপ্রেক্ষিতে গড়ে প্রায় ১,০৭৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমতুল্য।

এছাড়া, চলতি বছরের জুন মাসে কেন্দ্রটি থেকে প্রায় ৮২ কোটি ৭৩ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা গড়ে প্রায় ১,১৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সমান।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক (অপারেশন) খাঁন নোমান শিবলী বলেন, আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী এই প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। গ্রিডের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক এবং প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, বর্তমান তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাংলাদেশি প্রকৌশলী দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য। এখন যারা ভারতীয় প্রকৌশলীরা আছেন তারা এখন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমানাথ পূজারী বলেন, আমাদের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। ক্ষমতা ১৩২০ মেগাওয়াট রয়েছে যতটুকু ডিমান্ড থাকছে তাই গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাস থেকে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিয়মিতভাবে আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী ডিমান্ড পূরণ করছি। আমাদের পরিবেশ ঠিক রেখেই সকল কার্যক্রম চলছে। আগামী দিনেও আমাদের এই চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলমান থাকবে। কেন্দ্রের জন্যে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত কয়লা মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।