নিজ জেলার মহানগরে পুলিশের পদায়ন নয়, শতাধিক সদস্য বদলির তালিকায়

0
কোনো পুলিশ সদস্যের বাড়ি যে জেলায়, সেই জেলার মহানগর পুলিশে তাঁকে আর রাখা হবে না। স্থানীয় প্রভাব ও অপরাধী বলয় ভাঙতে কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত এসপি পদের শতাধিক সদস্যকে দ্রুত বদলি করছে পুলিশ সদর দপ্তর।। ছবি: সংগৃহীত (প্রতীকী ছবি)

কোনো পুলিশ সদস্যের বাড়ি যে জেলায়, সেই জেলার মহানগর পুলিশে তাঁকে আর রাখা হবে না। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার — এই ছয় স্তরের সদস্যদের ক্ষেত্রে এমন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহানগর পুলিশে কর্মরত এবং একই জেলায় বাড়ি এমন সদস্যদের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুই-এক দিনের মধ্যেই শতাধিক পুলিশ সদস্যকে অন্যত্র বদলি করা হতে পারে। তবে সাত-আট মাসের মধ্যে অবসরে যাবেন এমন সদস্যদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত

জেলা পুলিশের ক্ষেত্রে নিজ জেলায় পদায়ন আগে থেকেই বন্ধ ছিল। উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় আত্মীয়তা, সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক যোগাযোগ বা আর্থিক স্বার্থ যেন দায়িত্ব পালনে প্রভাব না ফেলে। তবে মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে এই নীতি একইভাবে প্রয়োগ হয়নি।

২০২১-২২ সাল থেকে নিজ জেলার মহানগর ইউনিটে পদায়ন না করার চর্চা শুরু হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিভিন্ন তদবির ও বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু সদস্য নিজ জেলার মহানগরে থেকে যান। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র জানায়, এই সুযোগে কেউ কেউ ডিবি, থানা, ট্রাফিক ও অপরাধ দমন ইউনিটে দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, দখলদার, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন।

খুলনার ঘটনা আলোচনায় আনল বিষয়টি

সম্প্রতি এই বিষয়টি নতুনভাবে সামনে এসেছে খুলনা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক তৈমুর ইসলামকে কেন্দ্র করে। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেপ্তার, অর্থ আদায়, প্রতিষ্ঠান দখলে সহযোগিতা এবং অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কেএমপিতে যোগ দেওয়ার পর দুই দফায় বদলির আদেশ হলেও তিনি কেএমপি ছাড়েননি। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা খুলনায়, পড়াশোনাও খুলনায়। সোমবার প্রথম আলোতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে একই দিন তাঁকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

তালিকা তৈরি, বদলি আসন্ন

ইতোমধ্যে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত শতাধিক এবং পুলিশ পরিদর্শক পর্যায়ে প্রায় ১০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, মহানগর পুলিশে একই জেলার বাসিন্দা হয়েও যাঁরা রয়ে গেছেন তাঁদের বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন নিজ এলাকায় থেকে কেউ কেউ স্থানীয় রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। এতে নিরপেক্ষ পুলিশিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার প্রভাব পড়ে আইনশৃঙ্খলার ওপরও।