নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের মারধরের বিনিময়ে পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ, থানায় ডায়েরি

0
নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মারধর করতে পারলে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগে থানায় লিখিত ডায়েরি করা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।। ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের মারধর করতে পারলে ৫০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে স্থানীয় ও লোহাগড়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক পদের ব্যক্তিসহ মোট ১১ জনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইল শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মিজানুর রহমান (৩৮), সহসভাপতি সৌরভ কর্মকার (২৬), লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন জমাদ্দার (২৯), লোহাগড়া উপজেলার সজিবুল ইসলাম (২৬), শাহাদাত হোসেন রায়হান (২৫), ইমন শিকদার (২৪), মো. ইস্রাফিল (২৫), সজীব চৌধুরী (২৬), এস কে আসলাম (২৫), নড়াইল পৌরসভার আবদুল্লাহ আল জাবের (৪০) এবং সদর উপজেলার জুবায়ের শেখ (২০)।

অভিযোগের বিষয়ে আমিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখালেখি ও ভুয়া ভিডিও পোস্ট করে আসছেন। একই সঙ্গে আমিসহ আমাদের আন্দোলনের অন্য নেতাদের মারধর বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে পারলে মোটা অঙ্কের টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনের নিরাপত্তার জন্য এখন মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তারা বর্তমানে বিদেশে কিংবা দেশের বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থেকে এই ধরনের হুমকি ছড়াচ্ছে। তাই আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রশাসন থেকে দ্রুত আইনি প্রতিকার না পেলে তাঁরা পরবর্তী শক্ত পদক্ষেপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে অন্যতম অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল জাবের তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব দাবি অস্বীকার করে বলেন, “আমি অভিযোগকারীকে যেমন ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তেমনি আমার সঙ্গে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদেরও চিনি না। আমার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক।” পলাতক বা আত্মগোপনে থাকায় এই ঘটনার অন্য অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।