ধান ও বিচালির দাম ভালো পেয়ে বোরো আবাদ বৃদ্ধিতে ঝুঁকেছে বাঘারপাড়ার কৃষক

0

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘারপাড়া (যশোর) ॥ বাজারে ধান ও বিচালির দাম ভালো পাওয়ায় বাঘারপাড়ার কৃষকরা চলতি মৌসুমে বেশি জমিতে বোরো আবাদে ঝুঁকেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে চাষ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে বাঘারপাড়া কৃষি অফিস। ধান ও বিছালির ভালো দাম পাওয়া আর রবি ফসলের ক্ষতি হওয়াতেই কৃষক এখন ধানের আবাদ বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাঘারপাড়ার অধিকাংশ কৃষক। বাঘারপাড়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়ার কৃষক এখন বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের চারা এবছর ভালো হয়েছে। বর্ষায় কিছু বীজতলার ক্ষতি হলেও পরে তা পুষিয়ে নিয়েছে কৃষক। গত মৌসুমে বাঘারপাড়ায় বোরো আবাদ ছিলো প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছর ৫শ হেক্টর জমিতে চাষ বৃদ্ধি পাবে। এর কারণ হিসেবে বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানিয়েছেন, চলতি রবি মৌসুমে বৃষ্টির কারণে বাঘারপাড়ায় তেল ও ডাল জাতীয় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষক ডাল জাতীয় ফসল কর্তনের পর জমিতে পাট বপন করেন। বৃষ্টিতে এসব ফসলের ক্ষতি হওয়াতে পাটের জন্য অপেক্ষা না করেই সেসব জমিতে বোরো আবাদ করছে। যেসব জমিতে বেশি জীবন কালের সরিষার চাষ হয়, একই কারণে সেসব জমিতেও ধানের আবাদ হচ্ছে। আবার অনেক কৃষক রোরো কর্তনের পর পাট বপনের আশায় আগাম জাতের ধান চাষ করছেন। দোহাকুলা গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, ‘৩৩ শতক জমিতে বারি ১৮ জাতের সরিষা বপন করেছিলাম। ইচ্ছা ছিলো সরিষা উঠানোর পরে পাট চাষ করবো। বর্ষায় সরিষার নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে পাটের জন্য অপেক্ষা না করেই আগাম ধান লাগিয়ে দিয়েছি।’ একই গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন জানিয়েঝেন, বর্ষায় মসুরি নষ্ট হওয়ায় সে জমিতে আগাম জাতের ধান লাগিয়েছি। ইন্দ্রা গ্রামের কৃষক গোলাম ছরোয়ার জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর ধরে বিচালির ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। ৫২ শতকের এক বিঘা জমির বিছালি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। যা থেকে চাষের অধিকাংশ খরচ উঠে আসছে। ধানের দামও বেশ ভালো। মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপরে। আর চিকন জাতের ধানের দামও ১৩-১৪শ টাকা। এসব কারণে কৃষক এখন অন্য ফসলের চাষ না করে ধান চাষে ঝুঁকছে।