ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার শুনে ‘চোখ খুলছেন না’ শিবির নেতা জিসান, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন

0
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান ।। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা তরুণীকে (২৫) একাধিকবার ধর্ষণ ও ওষুধ খাইয়ে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর থেকে ‘চোখ খুলছেন না’ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান। বর্তমানে তিনি পুলিশের কড়া পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিশের স্পষ্ট ভাষ্য, সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জিসান পুরোপুরি সুস্থ। তবে আইনি প্রক্রিয়াসহ আদালতে হাজির হওয়া এড়াতে তিনি নিজেকে কৃত্রিমভাবে ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে হাসপাতাল শয্যায় পড়ে আছেন।

এদিকে, ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা ও অসুস্থতার সত্যতা যাচাই করতে আজ রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধানকে প্রধান করে গঠিত এই বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞদের রাখা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বোর্ড চূড়ান্ত মতামত জানাবে। তিনি যদি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করে থাকেন, তবে কালই তাঁকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) দেওয়া হবে। পরিচালক আরও জানান, এখন পর্যন্ত তাঁর করা সব টেস্টের রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে এবং ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ১১ জুন রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তাঁর পরিবার দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এর একদিন পর শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের দাবি করে পরিবার। তবে জেলা ডিবির ওসি শামসুল আলম শাহ জানান, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি, মূলত ওই নারীকে বিয়ে করা এড়াতে তিনি নিজেই এই অপহরণের নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্কের জেরে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাঁকে চাপ দিয়ে গর্ভপাত করান। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিয়ে ভাঙতে ১১ জুন রাতে তিনি উধাও হন।

শুক্রবার রাতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর তিনি পুলিশের সাথে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। কিন্তু যখনই শোনেন ওই নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন এবং তিনি প্রধান আসামি, তখন থেকেই তিনি চোখ বন্ধ করে আছেন। মামলার অন্য তিন আসামি ও জিসানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজীব হাসানকে (২১) গ্রেপ্তার করে গতকাল শনিবার বিকেলেই কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ. বারী জানান, জিসান চোখ না খোলায় এবং নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় তাঁকে এখনো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।