যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতায় ইরানে বিক্ষোভ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির বিরুদ্ধে স্লোগান

0
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির বিরোধিতায় ইরানে বিক্ষোভ করেছে কট্টরপন্থীরা। তেহরান ও মাশহাদে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই এর তীব্র বিরোধিতা করে ইরানে বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির কট্টরপন্থীরা। গতকাল শনিবার ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হয়ে এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁদের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, মাশহাদে কালো চাদর পরিহিত একদল নারী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে ‘আরাগচি নিপাত যাক’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরও বেশ কিছু ভিডিওতে রাজধানী তেহরানের মূল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভবনের সামনেও একই ধরনের চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভের চিত্র দেখা গেছে; তবে ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপি স্বাধীনভাবে এই ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা চুক্তির আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এই আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচিত এই চুক্তিটি আজ রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) সই হতে পারে। অবশ্য সমঝোতা চূড়ান্ত বললেও ইরান চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সংশয় বজায় রেখেছে। এর আগে গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই সমঝোতার বিষয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। আরাগচি জানান, চুক্তির খসড়ায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি রয়েছে, যা মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপিত অবরোধের জবাবে ওয়াশিংটন দিয়েছিল।

তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কট্টরপন্থীদের দাবি, আলোচিত এই চুক্তিটি কোনোভাবেই ইরানের জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করবে না। তাদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে কৌশলগত ও সামরিক প্রভাব রয়েছে, তা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। অনেক রাজনীতিকের অভিযোগ, চুক্তি সম্পন্ন করতে গিয়ে ইরানের বর্তমান আলোচকেরা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ছাড় দিয়েছেন। একদিকে ইরান সরকার এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ওঠার বড় সুযোগ দেখছে, অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা এটিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক শক্তি হ্রাসের কারণ হিসেবে গণ্য করছে।