দীর্ঘ ছুটিতে এটিএম বুথে টাকার সংকট ভোগান্তিতে যশোরের গ্রাহকরা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে চলমান ১০ দিনের দীর্ঘ ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে মানুষ নির্ভর করছে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ওপর। কিন্তু যশোরে এসব বিকল্প মাধ্যমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। শহরের অধিকাংশ এটিএম বুথে টাকা না থাকায় গ্রাহকরা পড়েছেন তীব্র ভোগান্তিতে।

শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন এমএম আলী রোড, মুজিব সড়ক, গাড়িখানা, আরএন রোড ও আশপাশের এলাকার বেশিরভাগ এটিএম বুথে টাকা নেই। অনেক বুথ একেবারেই বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কোথাও আবার নগদ অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ায় বুথ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বেশ কিছু গ্রাহক অভিযোগ করেন, এক বুথ থেকে অন্য বুথে ঘুরেও টাকা তুলতে পারেননি তারা। রুবেল হোসেন নামে একজন গ্রাহক বলেন, ‘আমি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। ওই ব্যাংকের এটিএম কার্ড দিয়ে আমি কয়েকটি ব্যাংকের বুথে টাকা তুলতে গিয়েও কোনো টাকা তুলতে পারিনি।’ সংশিষ্ট ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় টাকা শেষ হয়ে গেছে।

রবিউল ইসলাম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘তিনটি ব্যাংকের বুথে ঘুরেছি। কোথাও টাকা নেই, আবার কোথাও কার্ড দিলেও তোলা যাচ্ছে না। খুব জরুরি কাজে নগদ টাকা দরকার ছিল, কিন্তু পাচ্ছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে এমন ভোগান্তি হবে তা আগে বুঝতে পারিনি।’

শিউলী আক্তার নামে অন্য এক গ্রাহক বলেন, ‘ঈদের পর এই প্রথম বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছি। কিন্তু হাতে নগদ টাকা নেই, বুথ থেকেও তুলতে পারছি না। প্রতিটি বুথে গেলেই বলছে টাকা নেই। এমন পরিস্থিতিতে অন্য কারো কাছে টাকা ধার করেও চালানোর উপায় নেই। সবার পকেট ফাঁকা। কীভাবে চলব তাই ভেবে পাচ্ছি না।’

এদিকে, যেসব বুথে এখনও কিছুটা টাকা রয়েছে, সেগুলোতেও সীমিত লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কেউ কেউ একাধিকবার চেষ্টা করেও প্রয়োজনীয় অর্থ তুলতে পারছেন না।

ব্যাংক সংশিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ছুটির সময় নিয়মিতভাবে বুথগুলোতে টাকা সরবরাহের জন্য আলাদা দল থাকলেও ঈদের চাপ এবং অতিরিক্ত লেনদেনের কারণে অনেক বুথে টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণেও টাকা সরবরাহে দেরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে যশোরের বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সাথে যোগাযোগ করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক সংশিষ্ট কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগামী রোববার ব্যাংক খোলার পর সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ঈদের মতো বড় উৎসবের সময় নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে যায়, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আগেই জানে। তারপরও আগেভাগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না নেওয়ায় এই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।