বেনাপোলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারের পণ্যবাহী গাড়িতে চোরাচালান, কাস্টমস কর্মকর্তাসহ আটক ৩

দুই কর্মকর্তাসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত

0
ছবি: সংগৃহীত।

বেনাপোল সংবাদদাতা॥ যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার গুদাম থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডারে পাঠানোর নামে কোটি টাকার মালামাল পাচারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এছাড়া বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

সোমবার ভোররাত ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে একটি কাভার্ডভ্যান আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঢাকা মেট্রো-ট- ২৪-৫৬২১ নম্বরের ওই গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, চালক মহসিন আলী ও হেলপার জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস ও আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রায়। পণ্যের চূড়ান্ত তালিকা ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ডভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

উদ্ধার মালামালের হিসেব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুইজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুইজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারা হলেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী ও আরিফুল ইসলাম এবং সিপাহী মো. হামিদুর রহমান, জামসেদ রহমান ও মো. সাগর।

সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

এরআগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণা বহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।