ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে আহত সোহেলি, চার দিন পর হাসপাতালে মৃত্যু

0
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এসকেএফ ওষুধ কোম্পানির মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার এবং সংগ্রামী মা সোহেলি ইসলামের ফাইল ছবি।। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চলন্ত রিকশায় ছিনতাইকারীদের ব্যাগ টানাহেঁচড়ার সময় নিচে পড়ে গুরুতর আহত ওষুধ কোম্পানির নারী কর্মকর্তা সোহেলি ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত সোহেলি ইসলাম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি এসকেএফ (SK+F) ওষুধ কোম্পানিতে ‘মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার’ পদে কর্মরত ছিলেন এবং একমাত্র মেয়ে সুমাইয়া আলমকে নিয়ে ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে গ্রামের বাড়ি পার্বতীপুরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মেয়েসহ গিয়েছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে গত শনিবার রাত ৯টার বাসে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। গত রোববার ভোর ৫টায় ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে নেমে কাউন্টারে প্রায় ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার পর তাঁরা একটি রিকশাযোগে ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা হন। সকাল সোয়া ৬টার দিকে রিকশাটি শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট পার হওয়ার সময় পাশ দিয়ে মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত দুই ছিনতাইকারী দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসে। মোটরবাইকের পেছনে বসা ব্যক্তি আচমকা চলন্ত রিকশায় থাকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে জোরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পিচঢালা রাস্তায় ছিটকে পড়েন সোহেলি। এতে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লেগে কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

নিহতের বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম জানান, রাস্তায় পড়ে গিয়ে সোহেলির মাথার পেছনের অংশ ফেটে যায়। ঘটনার পর তাঁর ভাগ্নি সুমাইয়া অনেকের কাছে সাহায্য চাইলেও প্রথমে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে রিকশাচালক ও স্থানীয় একজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে মাথার ভেতরের গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গতকাল সকালে তিনি মারা যান।

গতকাল বিকেলেই পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরী এলাকায় নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দেড় দশক আগে বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম করে আসছিলেন সোহেলি। দুই বছর আগে বাবা-মাকে হারানোর পর এবার নিজেও চলে গেলেন। মায়ের এমন আকস্মিক ও নির্মম মৃত্যুতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আলম। এই ঘটনায় এখনো থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা করা না হলেও পারিবারিক পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।