ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে যশোরে পরিবহন মালিক শ্রমিক ও যাত্রীদের ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া

0

আকরামুজ্জামান ॥ ডিজেল ও কেরোসিনের এলাফে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ যশোরাঞ্চালের পরিবহন সংশি¬ষ্টরা। তাদের দাবি করোনাকালে ব্যাপক ক্ষতির মুখে থাকা এ খাতটি নতুন করে সংকটে পড়তে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে তেমনই দেশের বৃহত্তম একটি জনগোষ্ঠী পথে বসতে বাধ্য হবে। তাই দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা। অন্যথায় এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডিজেল ও কেরোসিনে মূল্য ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকায় নির্ধারণ করে। এটি বুধবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এবিষয়টি বুধবার রাতেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় পরিবহন সংশি¬ষ্টদের মাঝে। এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়ন ২২৭ এর সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়ার কারণে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতে। তিনি বলেন, মলিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে এর বড় প্রভাব পড়ে শ্রমিকদের ওপর। বাস ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে যৌক্তিক ভাড়া আদায় করতে গেলে পথে ঘাটে যাত্রীদের সাথে শ্রমিকদের বাক বিতন্ডা হয়। এর ফলে শ্রমিকরা চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, সরকারের উচিত ছিলো দেশের পরিবহন সংশি¬ষ্ট নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে দাম বৃদ্ধি করা। হুট করে দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খাতে কর্মরত ও বিনিয়োগকারীরা চরমভাবে হতাশ। এ পরিস্থিতিতে আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, আমাদের ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মালিক পক্ষের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এবিষয়ে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বলেন, করোনার কারণে এমনিতে পরিবহন খাতে নাজুক অবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কারণে প্রায় একবছর ধরে আমরা রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারিনি। মাঝে মধ্যে গাড়ি চালানোর অনুমতি আসলেও সীমিত যাত্রী নিয়ে চলাচলের কারণে আমাদেরকে লোকসান গুণতে হয়েছে। এখন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে চলেছে ঠিক তখনই ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানোয় নতুন সঙ্কট সৃষ্টি হচ্ছে। সংগঠনের সহ সভাপতি আবু হাসান বলেন, ৯০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াতে একটি বাসের যে তেলের খরচ হয় তা বর্তমান বেড়ে আরও ৪৫০ টাকা যোগ হবে। তবে যাত্রীভাড়া বাড়েনি। এ টাকা পরিবহন মালিকদের তুলতে হলে অবশ্যই যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিতে হবে। ফলে এ নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়তে হবে। তিনি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানান। যশোর জেলা বাস মালিক ও ট্রাক ও ট্যাংকলরি সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলু বলেন, পরিবহন খাতকে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে কোমায় নিয়ে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে খাতটি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোনো পক্ষ থেকে সাহায্য পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি যখন একটু স্বাভাবিক পর্যায়ে যাচ্ছে তখন আবার এই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন সঙ্কটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা তেলের দাম বাড়ানোটা যৌক্তিকভাবে দেখতে চাই। তবে অবশ্যই এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়কে পরিবহন মালিকদের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিলো। তিনি সরকারকে অবশ্যই এ সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার আহবান জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় বেনাপোল থেকে যশোর চাঁচড়া আসা বাস যাত্রী রফিকুল ইসলামের সাথে, তিনি বললেন, বাস ভাড়া এখনো বাড়েনি। আগেও যা ছিলো এখনও তাই রয়েছে। তবে তেলের দাম বেড়েছে যখন তখন আজ হোক আর কাল, গাড়ি ভাড়াও বাড়বে। তেলের দাম বাড়ানো মানেই সব জিনিসের দামও বাড়বে। বাস ভাড়া বাড়েনি জানিয়ে প্রায় একই বক্তব্য দিলেন মাগুরা থেকে যশোর আসা বাস যাত্রী জামির হোসেন মোল¬া। তিনি বলেন, ট্রাকসহ অন্য যানবাহন যেগুলো ডিজেলে চলে তাতে মালপত্র নিতে গেলে খরচ বাড়বে। সেইসাথে বাড়বে নিত্যপণ্যের দামও। এমনিতেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম আগুন। এখন আরও বাড়বে। আর কষ্ট বাড়বে অল্প আয়ের মানুষদের।