টিসিবি’র ট্রাকে ভিড়, খালি হাতে ফিরছেন অনেকে

0

নাজমুল হুদা॥ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অসহায় ক্রেতা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন (টিসিবি) থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে নিত্যপণ্য কেনার চাহিদা বেড়েছে। রাজধানীতে টিসিবির বিভিন্ন পয়েন্টে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য কম থাকায় দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় বিক্রি। শেষ মুহূর্তে টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে আসা অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। রোদের মধ্যে দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো পণ্য কিনতে না পেরে অসন্তোষ জানান ক্রেতারা। আজ রাজধানীতে টিসিবির বিভিন্ন সেল পয়েন্ট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
করোনার মধ্যে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। একজন আরেক জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন পণ্যের জন্য। অধিকাংশ ক্রেতারই মুখেই মাস্ক থাকে না। রামপুরা ব্রিজ এলাকায় টিসিবির পণ্য নিতে এসেছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব সেলিনা বেগম। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুই কেজি ডাল, দুই কেজি চিনি আর দুই লিটার তেল কিনেছেন। সেলিনা বেগম বলেন, ‘কাইলো আইয়া ফিরা গেছি, নিতেই পারি নাই। আইজ সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়াইছি রোদের ভেতর এহন দুইটা বাইজা গেছে। সরকার এমনে বিক্রি না কইরা যদি মুদি দোকানে দাম কমাইয়া দিতো তাইলে সুবিধা হতো।’ দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে খালি হাতে ফেরত গেছেন নাসিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল ১১টা সময় আইসা দাঁড়াইছি কিন্তু পাই নাই। এহন শেষ হইয়া গেছে। অনেক মানুষ লাইনে দাঁড়ানো তাই পাওয়া যায় না। ধাক্কাধাক্কি করে অনেকে নিয়া যায়গা।’ নাসিমার মতো আনোয়ারা বেগমও লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পণ্য না নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘সেই সকালে আইছিলাম, এহন মাল শ্যাষ হইয়া গেছে। বেডারা আমারে দিলোই না। আমারে কইলো মুরব্বি মানুষ পিছনে খাড়াইয়া থাহেন দিমুয়ানে। আহিনা কোন সময় আইজ আইছিলাম দিলো না।’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টিসিবি’র ট্রাক সেল পয়েন্টেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে পণ্য কিনছেন। সেখান থেকে পণ্য কিনতে আসা হিরা শেখ বলেন, সেগুনবাগিচা এলাকায় ফেরি করে সবজি বিক্রি করেন তিনি। সব পণ্যের দাম বেশি তাই টিসিবি’র ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে এসেছেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি ডাল, চিনি ও তেল কিনেছেন। আনোয়ার হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, শেষ মুহূর্তে এসে সয়াবিন তেল পাইনি। শেষ হয়ে গেছে। চিনি আর ডাল কিনতে পেরেছি। দেশে করোনা আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের আয় কমেছে। নতুন করে ওমিক্রনের সংক্রমণ আরও ভাবাচ্ছে তাদের। খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষরা যেখানে করোনার ধাক্কা সামলে উঠতেই পারছেন না সেখানে নিয়মিত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখিতে তাদের মধ্যে কোণঠাসা অবস্থা বিরাজ করছে। রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে চাল, ডাল, তেলসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্যও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শুধু এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতেই এখন ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৬৮ টাকা, খোলা ১৫৫ টাকা আর পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা লিটার। টিসিবির তথ্য বলছে, খোলা সয়াবিন তেলে বাৎসরিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ শতাংশের বেশি আর পাম অয়েলে ৩৭ শতাংশের বেশি। তবে টিসিবি থেকে ক্রেতাদের দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল দেয়া হচ্ছে যার লিটারপ্রতি মূল্য ধরা হচ্ছে ১১০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি চিনি ৫৫ টাকা ও মসুর ডাল ৬০ টাকায় কিনতে পারছেন ক্রেতারা। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৬ থেকে ৭৮ টাকা আর মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। দেশের বাজারের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে টিসিবির ট্রাক থেকে কম মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারায় দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে। শুধু হতদরিদ্র নয়, করোনায় চাকরি হারানো অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষও লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন।