টানা বৃষ্টি ও অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত ভোলার চরাঞ্চল, ঘরের চালে আশ্রয় হাজারো মানুষের

0
ভোলার মনপুরায় জোয়ারের পানি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ায় শিশুসন্তান নিয়ে ঘরের টিনের চালে আশ্রয় নিয়েছেন এক বাসিন্দা।। ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও অমাবস্যার প্রভাবে অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। দখিনা বাতাসের কারণে জোয়ারের পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ৭৪টি চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ দিনে দুবার প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জোয়ারের পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ায় দুর্গত এলাকার মানুষ ঘরের মাচা কিংবা টিনের চালে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, আগামী রোববার পর্যন্ত এই বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ভোলার সদর, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, মনপুরা, লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ৭৪টি চর ও বাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল গত মঙ্গলবার রাত থেকে প্লাবিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার বিকেলে দৌলতখানের মেঘনা নদীতে জোয়ারের উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৩ দশমিক ৩৬ মিটার, যা বিপৎসীমার (২ দশমিক ৯৫ মিটার) চেয়ে অনেক ওপরে।

উচ্চ জোয়ারের কারণে ভোলার ইলিশা ও লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাট ফেরিঘাটে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা সাময়িক বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা। সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের চর মোহাম্মদে পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গৃহহীন পুরুষরা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিলেও নারী ও শিশুরা ঘরের মাচায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

বন্যা ও বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের আমন ধানের বীজতলা, আধা পাকা আউশ ধান, লাউখেত ও সবজিখেতসহ মাছের পুকুর ডুবে গেছে। মনপুরা উপজেলার কলাতলী ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক ঘর বুকসমান পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উঁচু রাস্তা ও ভবনে আশ্রয় খুঁজছেন।

গবাদিপশুর জন্য ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং শিশুরা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া চরফ্যাশনের ঢালচরে মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি একটি আশ্রয়কেন্দ্র (কিল্লা) থাকলেও খালের ওপর সেতু না থাকায় তা ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
দুর্গত এলাকার মানুষ এই পরিস্থিতি থেকে স্থায়ী পরিত্রাণ পেতে বন্যা নিয়ন্ত্রণে টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।